মিরপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বিভিন্ন বাজারে পেঁয়াজের দাম কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। মাঠ থেকে পেঁয়াজ তুলে বাজারে নিয়ে এলেও আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন শত শত কৃষক। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ পেঁয়াজ ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) উপজেলার কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকেরা ভ্যান ও অন্যান্য যানবাহনে করে পেঁয়াজ নিয়ে এসেছেন।
বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ থাকলেও দাম নিয়ে কৃষকদের মধ্যে সন্তুষ্টি নেই। অনেকেই পেঁয়াজের বস্তার পাশে বসে ক্রেতার অপেক্ষায় ছিলেন। কেউ কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করে বাড়ি ফিরেছেন, আবার কেউ দাম বাড়ার আশায় বাজারে অপেক্ষা করেছেন। কৃষকেরা জানান, পেঁয়াজ আবাদে বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ, জমি প্রস্তুত ও শ্রমিকের মজুরিসহ বেশ কিছু খরচ হয়। এখন যে দামে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে, তাতে অনেকেরই উৎপাদন খরচ উঠছে না। স্থানীয় কৃষক মো. সুলতান আলী বলেন, “পেঁয়াজ চাষে অনেক টাকা খরচ হয়েছে। এখন যে দাম, তাতে বিক্রি করে লাভ তো হচ্ছে না, উল্টো খরচের টাকাও উঠবে কি না চিন্তায় আছি।
এভাবে দাম কম থাকলে কৃষকের লোকসান হবে।” কৃষক আব্দুস সালাম বলেন, “সার, কীটনাশক, সেচ আর শ্রমিকের পেছনে অনেক টাকা গেছে। এত কষ্ট করে পেঁয়াজ ফলিয়ে বাজারে এসে যদি ন্যায্য দাম না পাই, তাহলে আমাদের কী করার আছে? পেঁয়াজের ভালো দাম দরকার।” কৃষকদের ভাষ্য, বাজারে একসঙ্গে বেশি পেঁয়াজ উঠলে দাম কমে যায়। তখন কৃষকেরা বাধ্য হয়ে কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করেন। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েন উৎপাদনকারী কৃষকেরাই।
তাদের দাবি, পেঁয়াজের বাজারদর নিয়ে সংশ্লিষ্টদের নজরদারি বাড়ানো দরকার। পাশাপাশি কৃষকের উৎপাদন খরচ বিবেচনায় নিয়ে পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হলে তারা কিছুটা স্বস্তি পাবেন। কৃষকেরা বলছেন, এভাবে পেঁয়াজের দাম কমতে থাকলে আগামীতে অনেক কৃষক পেঁয়াজ চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন। এতে পরবর্তী মৌসুমে পেঁয়াজের উৎপাদনেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।









