কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্কে রাতারাতি কোটিপতি শাওন

কয়েক বছরে ফ্ল্যাট, জমি, ব্যবসা ও খামার

 

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কয়েক বছর আগেও এলাকায় ভবঘুরে হিসেবে পরিচিত ছিলেন শাহরিয়ার হোসেন ওরফে শাওন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে একাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ফ্ল্যাট, জমি, খামার ও বিপুল পরিমাণ অর্থ-সম্পদের মালিক হওয়ার পাশাপাশি অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্ক পরিচালনা এবং এলাকায় মাদক সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে অল্প সময়ে বিপুল অর্থের মালিক হয়েছেন তিনি। শাহরিয়ার হোসেন ওরফে শাওন কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের মহননগর গ্রামের মো. নাসির উদ্দীনের ছেলে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক বছর আগেও সাধারণ কৃষক পরিবারের সন্তান হিসেবে পরিচিত শাওনের তেমন কোনো দৃশ্যমান ব্যবসা বা সম্পদ ছিল না। পরে পড়াশোনার কথা বলে কুষ্টিয়া শহরে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে সেখান থেকেই অনলাইন জুয়ার কার্যক্রম শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অনুসন্ধানে স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অল্প সময়ের মধ্যেই শাওনের আর্থিক অবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। কুমারখালীর পান্টি বাজারে প্রায় কোটি টাকা মূল্যের জমি ও দোকানঘর কেনার পাশাপাশি রড, সিমেন্ট, স্যানিটারি সামগ্রী ও ঢেউটিনের ব্যবসা গড়ে তোলার কথা জানা গেছে।

নিজের দোকানের পাশাপাশি আরও কয়েকটি গোডাউন ভাড়া নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, মহননগরে শাওনের নিজস্ব বাড়িতে নির্মাণ করা হয়েছে বিলাসবহুল ভবন। বাড়ির পাশেই রয়েছে বড় আকারের গরুর খামার। কুষ্টিয়া শহরেও তার নামে-বেনামে একাধিক ফ্ল্যাট ও সম্পদ থাকার অভিযোগ রয়েছে। এসব সম্পদের উৎস নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, গত ৫ আগস্টের পর এলাকায় মাদক ব্যবসার একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন শাওন।

ওই চক্রের মাধ্যমে এলাকার বিভিন্ন স্থানে মাদক সরবরাহ করা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের দাবি। স্থানীয় একটি সূত্রের দাবি, অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্ক পরিচালনার ক্ষেত্রে শাওনের সঙ্গে এলাকার প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতার যোগাযোগ রয়েছে। তাদের পেছনে নিয়মিত বিপুল অর্থ ব্যয়ের অভিযোগও রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মহননগর গ্রামের এক প্রবীণ ব্যক্তি বলেন, দুই-তিন বছর আগেও শাওনকে ভবঘুরে হিসেবেই চিনতাম। হঠাৎ দেখছি সে কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছে। এত অল্প সময়ে তার সম্পদের এই পরিবর্তন নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, চাঁদপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় কয়েকশ কিশোর ও তরুণ অনলাইন স্ক্যামিং ও সাইবার অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে। দ্রুত ধনী হওয়ার আশায় তরুণদের একটি অংশ অনলাইন প্রতারণা, যৌন হয়রানি ও বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে স্থানীয়ভাবে একটি সংঘবদ্ধ অনলাইন অপরাধচক্র গড়ে ওঠার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অতীতেও বিভিন্ন গণমাধ্যমে শাওনের বিরুদ্ধে অনলাইন জুয়া সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশিত হলেও তার কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

এমনকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তার গ্রেপ্তার হওয়ার কথাও স্থানীয়ভাবে প্রচলিত রয়েছে। পরে প্রভাবশালী এক ব্যক্তির হস্তক্ষেপে তিনি ছাড়া পান বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে শাহরিয়ার হোসেন ওরফে শাওনের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, শাওনের সম্পদের উৎস, অনলাইন জুয়া, সাইবার অপরাধ ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

Tags :

কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স, কুষ্টিয়া জিলাইভ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর