ভেড়ামারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টেন্ডারে অনিয়ম
বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এমএসআর (মেডিসিনস, সার্জিক্যাল অ্যান্ড রিএজেন্টস) খাতের ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী ক্রয়ে ব্যাপক অনিয়ম, অস্বচ্ছতা এবং সরকারি ক্রয়বিধি (পিপিআর) লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সরকারি অর্থে পরিচালিত কোটি টাকার একাধিক টেন্ডার প্রক্রিয়ায় পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ পাইয়ে দিতে ই-জিপি ব্যবস্থাপনায় বহিরাগত ব্যক্তির হস্তক্ষেপের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. মিজানুর রহমান।
স্থানীয় ঠিকাদারদের দাবি, ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এমএসআর খাতের একাধিক টেন্ডারে স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। স্থানীয় ঠিকাদারদের অভিযোগ, সরকারি ই-জিপি আইডি পরিচালনা, দরপত্র দাখিল, মূল্যায়নসহ সংবেদনশীল কার্যক্রমে বহিরাগত ব্যক্তির সম্পৃক্ততা ছিল। এমনকি সরকারি পাসওয়ার্ড ও ই-জিপি-সংক্রান্ত তথ্য বহিরাগত ব্যক্তির কাছে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। এতে দরপত্রের গোপনীয়তা ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। অনুসন্ধানে আরও অভিযোগ পাওয়া গেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির বড় অঙ্কের কয়েকটি টেন্ডারের কার্যাদেশ পেয়েছে ঢাকার ‘দ্য গ্রেইট ইন্টারন্যাশনাল’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান।
স্থানীয়দের দাবি, প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা ও বাস্তব অস্তিত্ব নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। প্রতিষ্ঠানটির ট্রেড লাইসেন্সে ঠিকানা হিসেবে ৩০৩, ময়নাবাগ, হোসেন মার্কেট, স্বাধীনতা সরণি, উত্তর বাড্ডা, ঢাকা-১২১২ উল্লেখ রয়েছে। তবে সরেজমিনে ওই ঠিকানায় গিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কার্যকর অফিস বা দৃশ্যমান ব্যবসায়িক কার্যক্রম পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। স্থানীয় ঠিকাদারদের প্রশ্ন, বাস্তবে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম ও সক্ষমতা যাচাই না করে কীভাবে মূল্যায়ন কমিটি তাদের দরপত্রকে যোগ্য ঘোষণা করে কোটি টাকার সরকারি কার্যাদেশ দিয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির দাখিল করা অভিজ্ঞতার সনদ ও অন্যান্য কাগজপত্রের সত্যতা যাচাই করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। অভিযোগ রয়েছে, কয়েকটি ক্ষেত্রে হাসপাতালের জন্য ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ এবং গ্রহণ প্রক্রিয়া (এজঘ) সম্পন্ন হওয়ার আগেই বিল প্রস্তুত করে সরকারি কোষাগার থেকে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট বিল, সরবরাহ রেজিস্টার, এজঘ ও সরকারি হিসাবপত্র পরীক্ষা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয়দের মতে, ই-জিপি লগ ফাইল, টেন্ডার মূল্যায়ন প্রতিবেদন, দরপত্রে দাখিল করা অভিজ্ঞতার সনদ, কার্যাদেশ, সরবরাহ ও এজঘ নথি এবং বিল-ভাউচার পর্যালোচনা করলেই অভিযোগগুলোর প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।
এ কারণে এমএসআর খাতের গত দুই অর্থবছরের সব টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ঠিকাদার ও সচেতন মহল। তাদের দাবি, তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সরকারি অর্থের অপচয় ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। অভিযোগের বিষয়ে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমানের বক্তব্য জানতে তাঁর অফিসিয়াল ও ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অন্যদিকে, ‘দ্য গ্রেইট ইন্টারন্যাশনাল’-এর কথিত কার্যালয়ের অস্তিত্ব খুঁজে না পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য নেওয়াও সম্ভব হয়নি।









