খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ই আগস্ট ২০২৬, ২:৩ এএম

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া শহরের ঈদগাহপাড়ায় অবস্থিত মাদরাসাতুস-সালেহীন মাদ্রাসায় এক হেফজ শিক্ষার্থীকে কয়েক দিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত হেফজ বিভাগের শিক্ষক আসাদুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ভুক্তভোগী ১৩ বছর বয়সী শিক্ষার্থী হোসাইন কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ঈদগাহপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
তার বাবা মো. ফজর আলী অভিযোগ করে বলেন, মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘটিত একটি ঘটনার দায় অন্যায়ভাবে তার ছেলের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। এরপর টানা কয়েক দিন তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। পরিবারের দাবি, মারধরের ফলে হোসাইনের পিঠজুড়ে লম্বা আঘাতের দাগ, দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোলা ও জখমের চিহ্ন দেখা যায়। নির্যাতনের পরপরই হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করাতে চাইলেও বাধা দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন স্বজনরা। পরে তাকে বাড়িতে এনে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী হোসাইন জানায়, কয়েকজন সহপাঠীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনার পর পুরো দোষ তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়।
এরপর তাকে বারবার মারধর করা হয়। একপর্যায়ে রাতে সুযোগ পেয়ে এক বড় ভাইয়ের সহায়তায় ইমো অ্যাপের মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। খবর পেয়ে পরদিন সকালে পরিবারের সদস্যরা মাদ্রাসায় গিয়ে তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। ঘটনার বিষয়ে মাদরাসাতুস-সালেহীন ও সফুরা খাতুন ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান নাজমুল হক শামীম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তদন্ত চলাকালে অভিযুক্ত শিক্ষক আসাদুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তাকে মাদ্রাসা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আমাদের প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী, বিশেষ করে শিশু শিক্ষার্থীর ওপর শারীরিক বা মানসিক নির্যাতনের কোনো সুযোগ নেই। এ বিষয়ে ট্রাস্টের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’।
তিনি জানান, তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত শিক্ষককে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হবে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বা তার পরিবার আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলার নামে কোনো ধরনের শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন গ্রহণযোগ্য নয়। তারা দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য