কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

দাঁড়িয়াবান্ধা শুধু একটি খেলা নয়-এটি আমাদের ঐতিহ্য: এমপি ফরিদা ইয়াসমিন

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার ঝাউদিয়ায় দীর্ঘদিন পর জমে উঠেছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলা দাঁড়িয়াবান্ধা। তবে স্থানীয়ভাবে ‘গাদন’ নামে পরিচিত। হারিয়ে যেতে বসা এই লোকজ খেলাকে ঘিরে ঝাউদিয়া ইউনিয়নের ফুটবল মাঠে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। কুষ্টিয়ার সামাজিক সংগঠন রাশিদা ফাউন্ডেশনের আয়োজনে, গতকাল শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে দুই দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সংরক্ষিত আসন-৩০৬-এর সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন।

অনুষ্ঠানে রাশিদা ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট শামিম উল হাসান অপুর সভাপতিত্বে খেলার উদ্বোধক ছিলেন, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ। প্রধান আলোচক ছিলেন, প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার। সার্বিক পরিচালনা করেন রাশিদা ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা উত্তম কুমার বিশ্বাস ও ফাউন্ডেশনের সভাপতি সাংবাদিক শাহারিয়া ইমন রুবেল।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু মনি জুবায়েদ রিপন, জেলা বিএনপির সদস্য আবু তালেব, জেলা বিএনপির সাবেক কোষাধ্যক্ষ জয়নাল আবেদীন প্রধান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আব্দুল হাকিম মাসুদ, ঝাউদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ডা. সাদ আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া, জেলা কৃষক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আমজাদ হোসেন বিদ্যুৎ এবং সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাইদুল ইসলাম টিপু।

এসময় এমপি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, “দাঁড়িয়াবান্ধা শুধু একটি খেলা নয়, এটি আমাদের গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও শেকড়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি স্মৃতি। আধুনিকতার কারণে হারিয়ে যেতে বসা এই খেলাকে আবার মাঠে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। খেলাধুলা তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখে এবং সুস্থ সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রাশিদা ফাউন্ডেশনের এ আয়োজনের মাধ্যমে আমাদের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে ফিরে আসবে এটাই প্রত্যাশা।

কুতুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও নিয়মিত দেশীয় খেলাধুলার আয়োজন করা প্রয়োজন। এতে তরুণ প্রজন্ম মোবাইল ও প্রযুক্তিনির্ভর জীবন থেকে কিছুটা বেরিয়ে এসে মাঠমুখী হবে, শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকবে এবং একই সঙ্গে আমাদের হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যও সংরক্ষিত হবে।

প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির যুগে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। একসময় গ্রামের মাঠে দাঁড়িয়াবান্ধা, হাডুডু, গোল্লাছুটসহ নানা দেশীয় খেলাকে ঘিরে মানুষের মধ্যে যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যেত, সময়ের পরিবর্তনে তা অনেকটাই কমে গেছে। দাঁড়িয়াবান্ধার মতো দেশীয় খেলাগুলোর আয়োজন শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং নতুন প্রজন্মের কাছে আমাদের শেকড় ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরার অন্যতম মাধ্যম।

ঝাউদিয়া ফুটবল মাঠে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতা দেখতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসেন হাজারো দর্শক। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষের উপস্থিতিতে খেলার মাঠ পরিণত হয় মিলনমেলায়। খেলোয়াড়দের দুর্দান্ত নৈপুণ্য আর দর্শকদের উচ্ছ্বাসে পুরো মাঠজুড়ে বিরাজ করে প্রাণচাঞ্চল্য। দাঁড়িয়াবান্ধা গ্রামবাংলার অন্যতম জনপ্রিয় ঐতিহ্যবাহী খেলা। একসময় গ্রামের মাঠে-মাঠে নিয়মিত এই খেলা অনুষ্ঠিত হলেও আধুনিক বিনোদন ও প্রযুক্তিনির্ভর জীবনের কারণে ধীরে ধীরে এর প্রচলন কমে এসেছে।

ফলে নতুন প্রজন্মের অনেকেই এই খেলাটির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। এদিকে রাশিদা ফাউন্ডেশনের সভাপতি শাহরিয়া ইমন রুবেল জানান, গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা খেলাধুলাকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা এবং স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ধরে রাখার লক্ষ্যেই এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রামীণ জনপদে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি করাও এ আয়োজনের উদ্দেশ্য। এদিকে খেলা দেখতে আসা দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। খেলার গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দর্শকদের করতালি, উল্লাস ও চিৎকারে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মাঠ। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে মাঠে এসে দীর্ঘদিন পর ঐতিহ্যবাহী এই খেলা উপভোগ করেন।

আমরা চাই তরুণ সমাজ খেলাধুলায় যুক্ত হোক এবং মাদককে না বলুক। তবে ভবিষ্যতেও ঝাউদিয়ায় দাঁড়িয়াবান্ধাসহ গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী খেলার আয়োজন অব্যাহত থাকবে। এছাড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের জন্য পুরস্কার হিসেবে দুটি বড় খাসি ঘোষণা করা হয়েছে। পুরস্কার ঘোষণা ঘিরেও দর্শকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে বাড়তি উৎসাহ ও উত্তেজনা। দর্শকরা বলেন, আধুনিক সময়ের নানা বিনোদনের ভিড়ে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো হারিয়ে যেতে বসেছে। এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত হলে একদিকে যেমন পুরোনো ঐতিহ্য টিকে থাকবে, অন্যদিকে নতুন প্রজন্মও দেশীয় খেলাধুলার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবে।

Tags :

কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স, কুষ্টিয়া জিলাইভ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর