বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আয়োজিত সাংগঠনিক মতবিনিময় সভায় ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত সভায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক দায়িত্বে থাকা অনিন্দ্য ইসলাম অমিত উপস্থিত ছিলেন। সরকারি সূত্রেও অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সভায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের ভাষ্য, সভা চলাকালে মঞ্চের সামনের অংশে অবস্থান ও বসাকে কেন্দ্র করে জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে উত্তেজনা বেড়ে গেলে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা হাতাহাতি ও মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। এতে সভাস্থলে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ঘটনার আকস্মিকতায় মতবিনিময় সভায় উপস্থিত বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতারা হতবাক হয়ে পড়েন। জ্যেষ্ঠ নেতাদের বারবার মাইকে শান্ত থাকার অনুরোধ ও হস্তক্ষেপ সত্ত্বেও দুই পক্ষের বিশৃঙ্খলা থামানো কঠিন হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশও উপস্থিত হয়।
মারামারির সময় সভাস্থলের বেশ কয়েকটি চেয়ার ভাঙচুর করা হয় এবং কয়েকজন কর্মী আহত হন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে প্রবীণ নেতাদের তৎপরতায় ও দলীয় নিরাপত্তাকর্মীদের কড়া হস্তক্ষেপে সাময়িকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। মারামারির ঘটনায় সভাস্থলে থাকা কয়েকটি চেয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেছেন। এছাড়া কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেলেও তাদের নাম-পরিচয় বা চিকিৎসার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সভায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের কয়েকজন জানান, ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আগে থেকেই বিভিন্ন বিষয়ে বিরোধ ও মতপার্থক্য ছিল। সভায় অবস্থান নেওয়া ও মঞ্চের সামনে জায়গা করে নেওয়াকে কেন্দ্র করে সেই বিরোধ প্রকাশ্যে রূপ নেয় বলে তাদের দাবি। তবে সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং এতে কারা জড়িত ছিলেন, তা দলীয়ভাবে যাচাই করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এদিকে, দলীয় কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতাদের উপস্থিতিতে এমন পরিস্থিতির ঘটনায় নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেটিও আলোচনায় রয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোজাক্কির রহমান রাব্বি বলেন, ছাত্রদলের কোনো দুই গ্রুপ নেই। কথা কাটাকাটির জেরেই এমন ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি সমাধানে তারা কাজ করছেন।
কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ছাত্রদলের শ্লোগান নিয়ে নিজেদের ভিতরে একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। জেলার সিনিয়র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে তাৎক্ষণাৎ বিষয়টি বাইরে থেকে সমাধান করে দেন। আমরা বিষয়টি প্রথমে টের পাইনি। তবে, ভালো বিষয়টি হলো ছাত্রদলের এই ঝামেলার জন্য আমাদের প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের সাথে জেলার নেতৃবৃন্দের মিটিং এ কোনো সমস্যা হয়নি। খুব ভালো ভাবেই আমাদের মিটিং সফল করেছি। এরআগে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শুরু হয়।
কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভার মূল উদ্দেশ্য ছিল সাংগঠনিক কার্যক্রম, স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় এবং দলীয় কর্মকাণ্ড নিয়ে মতবিনিময়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বাবু জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী। সভায় সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ। সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন সরকার।








