খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ই জুলাই ২০২৬, ১:২৪ এএম

ভেড়ামারা প্রতিনিধি ॥ চলতি বর্ষা মৌসুমে গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পানির তোড়ে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার পদ্মা নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বাহাদুরপুর ইউনিয়নের ফয়জুল্লাহপুর গ্রামে ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি ও আপৎকালীন ব্যবস্থা হিসেবে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং (নিক্ষেপ) কার্যক্রমের উদ্যোগ নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
গতকাল বুধবার (২২শে জুলাই) দুপুরে ফয়জুল্লাহপুর পয়েন্টে এই ডাম্পিং কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. আব্দুল গফুর। উদ্বোধনকালে সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর ভাঙনকবলিত এলাকা সশরীরে পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত ও আতঙ্কিত সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলেন। কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে পদ্মার প্রবল স্রোতে ফয়জুল্লাহপুর এলাকায় ভয়ংকর নদী ভাঙ্গন লক্ষ্য করা গেছে।
বাঁধ ধসে গেলে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই প্রাথমিক ধাক্কা সামলাতে জরুরি ভিত্তিতে ৬ হাজার-এর বেশি জিও ব্যাগ এবং এবং ২৩০ টি জিও টিউব প্রস্তুত করে ডাম্পিংয়ের কাজ শুরু করা হয়েছে। এদিকে সরকারিভাবে জিও ব্যাগ ফেলা শুরু হলেও নদীপাড়ের মানুষের মাঝে স্থায়ী স্বস্তি ফিরছে না। ফয়জুল্লাহপুর ও আশেপাশের গ্রামের বাসিন্দারা এই কার্যক্রমকে কেবলই এক ‘সাময়িক জোড়াতালি’ হিসেবে দেখছেন।
স্থানীয় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের অভিযোগ, প্রতি বছরই বর্ষা এলে এভাবে লোকদেখানো জিও ব্যাগ ফেলা হয়, যা পদ্মার তীব্র ঘূর্ণিস্রোতে কয়েকদিনের মধ্যেই ভেসে যায়। শুকনো মৌসুমে স্থায়ী কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় প্রতি বছরই নতুন করে ভাঙনের সৃষ্টি হয় এবং শত শত পরিবার ভিটামাটি ও ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়।নদীপাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের একমাত্র ও প্রধান দাবি—অনতিবিলম্বে সিসি ব্লক দিয়ে এখানে স্থায়ী ও মজবুত প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করতে হবে।
শুধু জিও ব্যাগ ফেলে সরকারি অর্থের অপচয় বন্ধ করে নদী ড্রেজিং এবং সিসি ব্লকের স্থায়ী বাঁধ না দিলে ভেড়ামারার মানচিত্র থেকে ভেড়ামারা -সোনাইকুন্ডি পাকা সড়ক ও ফয়জুল্লাহপুর গ্রাম নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। জনগণের এই যৌক্তিক দাবির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে এমপি আব্দুল গফুর বলেন, “জিও ব্যাগ ফেলা একটি সাময়িক ও জরুরি পদক্ষেপ মাত্র। এই জনপদকে স্থায়ীভাবে রক্ষা করতে হলে সিসি ব্লকের বিকল্প নেই। আমি জাতীয় সংসদে এ বিষয়ে কথা বলব এবং ভেড়ামারার পদ্মাপাড় রক্ষায় ক্যাপিটাল ড্রেজিং ও সিসি ব্লক সম্বলিত একটি দীর্ঘমেয়াদী মেগা প্রকল্প পাসের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী আল আমিন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম কুষ্টিয়া জেলা শাখার প্রশিক্ষণ বিষয়ক সেক্রেটারি অধ্যাপক ডঃ নুরুল আমিন জসিম, ভেড়ামারা উপজেলা জামায়াতের আমির মোঃ জালাল উদ্দিন সহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য