কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স
প্রকাশ: ১৪ই আগস্ট ২০২৬, ১:৫৬ এএম

ইবি প্রতিনিধি ॥ দুর্ঘটনা এড়াতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুকুরে নামার ক্ষেত্রে দফায় দফায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও তা মানছেন না শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হল সংলগ্ন পুকুরপাড়ে সতর্কবার্তা ও নিষেধাজ্ঞা সংবলিত সাইনবোর্ড টানানোর পরেও প্রতিদিন দলবেঁধে সাঁতারে নামছেন তারা। এতে একের পর এক ঘটছে দুর্ঘটনা, তৈরি হচ্ছে বড় ধরনের প্রাণহানির ঝুঁকি।
তবে এবার নামলেই বড় ধরনের শাস্তির আওতায় আসবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। জানা যায়, পুকুরটিতে কোনো লাইফ জ্যাকেট, লাইফগার্ড কিংবা জরুরি উদ্ধার সরঞ্জামের ব্যবস্থা নেই। অতীতে একই স্থানে মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতার চরম ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। গতকাল নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পুকুরে নেমে এক শিক্ষার্থী দুর্ঘটনার শিকার হন। পরে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীরা বলেন, তীব্র গরম এবং সাঁতার কাটার শখ থেকেই অনেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পুকুরে নামছেন। তবে প্রশাসনের কার্যকর ও কঠোর নজরদারি না থাকায় নিয়ম ভাঙার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। এর আগে, ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই বিকেলে এই পুকুর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনার পর প্রশাসন পুকুরটিতে নামার ওপর আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা দেয়। তবুও সচেতন না হয়ে শিক্ষার্থীরা পুকুরে নামা অব্যাহত রাখে।
যার ফলশ্রুতিতে গত ২৯ জুলাই আইন বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী পানিতে ডুবে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার হন এবং চিকিৎসার পর প্রাণে বাঁচেন। এদিকে কর্তৃপক্ষ বলছে, এবার থেকে আর ছাড় দেওয়া হবে না। পুকুরটিতে আলাদা আনসার সদস্যদের ডিউটি দিবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের নাম এন্ট্রি করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, “নিরাপত্তা কর্মীরা জানিয়েছেন বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা নিয়ম অমান্য করছে। এবার থেকে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে যাবে। যারা পুকুরে নামবে তাদের তালিকা তৈরি করে বিধি মোতাবেক শাস্তির আওতায় আনা হবে।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য