দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে স্থানীয় সাংবাদিক খন্দকার জালাল উদ্দিনকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে তাঁরই ছোট ভাই খন্দকার আব্দুল মজিদ সুইট (শাহিন হাসান) এর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রাণভয়ে ওই সাংবাদিক গৃহবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। এঘনায় সাংবাদিক মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জালাল উদ্দিন স্থানীয় বাংলাদেশ বার্তা পত্রিকার দৌলতপুর প্রতিনিধি এবং আল্লারদর্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি।
তিনি হোগলবাড়ীয়া ইউনিয়নের আল্লারদর্গা বাজার এলাকার খন্দকার মনির উদ্দিনের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পৈত্রিক সম্পত্তি বণ্টনের দলিল অনুযায়ী জালাল উদ্দিন ১৪১৫ দাগে তিন শতক এবং তাঁর ভাই শাহিন হাসান সুইট ১৪১৩ দাগে জমির মালিকানা পান। পরবর্তীতে জালাল উদ্দিনের অভিযোগ, সুইট জোরপূর্বক তাঁর অংশের জমিতে প্রবেশ করে দখল করেন। এ ঘটনায় তিনি দৌলতপুর থানায় দুইবার সাধারণ ডায়েরি ও একবার লিখিত অভিযোগ করেন।
পরে বিরোধ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। জালাল উদ্দিন ১৪৪ ধারায় মামলা করেন, যার নম্বর ৭৯। তাঁর দাবি, গত ১১ আগস্ট মামলাটির রায় তাঁর পক্ষে আসে। রায় বাস্তবায়নের জন্য পুলিশের এএসআই রাসেল ঘটনাস্থলে গেলে জমির কিছু অংশ বুঝিয়ে দেওয়া হয়। জালাল উদ্দিনের অভিযোগ, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চলে যাওয়ার পর সুইট দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর হামলা করেন এবং তাঁকে হত্যার হুমকি দেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও হত্যার হুমকি দিয়ে একটি স্ট্যাটাস দেওয়া হয়।
সেখানে লেখা হয় “আমার নামে মামলা করলে আল্লাহর কসম আমি তোকে মেরে ফেলবো।” এ ঘটনার পর থেকে প্রাণনাশের আশঙ্কায় জালাল উদ্দিন বাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না বলে দাবি করেছেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে “খুন না করে ছাড়বে না” বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিক খন্দকার জালাল উদ্দিনকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।
একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। অভিযোগের বিষয়ে খন্দকার আব্দুল মজিদ সুইটের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, তাঁর জমি জালাল উদ্দিন পুলিশ দিয়ে দখল করেছেন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, “জালাল উদ্দিনকে আমি খুন করবো” এরপর ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এএসআই রাসেল বলেন, আদালতের রায়ের প্রেক্ষিতে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে জমি মোটামুটি বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় সুইট পুলিশের সঙ্গেও খারাপ আচরণ করেন।
পরে তাঁকে আটক করে থানায় নেওয়া হলেও পরিবারের লোকজন তাঁকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন এবং তাঁকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমান জানান, বিষয়টি তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দিঘলকান্দি ক্যাম্পের এএসআই রাসেলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, জমি নিয়ে বিরোধ থাকলেও একজন সাংবাদিককে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকির অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।









