খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ই জুন ২০২৬, ২:৫৭ এএম

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো)-এর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ ও ২-এ সংঘটিত ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় এসব গুরুতর অনিয়ম নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রেক্ষিতে গতকাল বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ওজোপাডিকো কর্তৃপক্ষ পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের মধ্যে রয়েছে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ ও মিটার স্থাপনের নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, অফিসে অনুপস্থিত থেকে প্রক্সি ডিউটির মাধ্যমে ভুতুড়ে হাজিরা নিশ্চিত করা এবং সরকারি চাকরি বিধিমালা লঙ্ঘন করে নিজস্ব মিটার ব্যবসা পরিচালনা।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম চক্রবর্তীর ছত্রছায়ায় একটি শক্তিশালী পারিবারিক সিন্ডিকেট পুরো দপ্তরের ঘুষ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করছে। নিজের ড্রাইভারসহ একই পরিবারের ১২ জনকে বিভিন্ন পদে চাকরির ব্যবস্থা করে তিনি সেখানে একচ্ছত্র আধিপত্য তৈরি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া, নিরাপত্তা প্রহরী মফিজকে হিসাব শাখার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বসিয়ে ঘুষ আদায়ের চাঞ্চল্যকর তথ্যও সামনে এসেছে। প্রকাশিত সংবাদের পর ওজোপাডিকো কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেছে।
প্রথম কমিটি ওজোপাডিকো সদর দপ্তরের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কর্তৃক গঠিত তিন সদস্যের এই কমিটিতে আহবায়ক হিসেবে রয়েছেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী অমূল্য কুমার সরকার এবং সদস্য হিসেবে রয়েছেন ব্যবস্থাপক (অর্থ) মো. মোক্তার হোসেন ও সহকারী ব্যবস্থাপক (মানব সম্পদ) মো. রাহাদ হোসেন। এই কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। দ্বিতীয় কমিটি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জাহান-ই-শবনম স্বাক্ষরিত আরেকটি দপ্তরাদেশে চুয়াডাঙ্গা ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আহসান হাবীবকে আহবায়ক এবং আবাসিক প্রকৌশলী মো. শাহনেওয়াজ শাহীনকে সদস্য করে দুই সদস্যের পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এই কমিটিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে সরেজমিনে তদন্ত করে মতামতসহ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সচেতন মহলের দাবি দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে বহাল থেকে সরকারি ওজোপাডিকোর বদলি নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম চক্রবর্তী নিজের স্বার্থ হাসিল করে চলেছেন বলে অভিযোগ করেন। সরকারি কর্মকর্তা হয়েও ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মিটারের ব্যবসার অর্থ গ্রহণের বিষয়টিকে সার্ভিস রুলের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কুষ্টিয়ার সচেতন মহল বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং ওজোপাডিকোর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করেছেন। একই সঙ্গে তদন্তে দোষী সাব্যস্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা, যাতে গ্রাহকরা এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে পারেন। তদন্ত কমিটিগুলো দ্রুত কাজ শুরু করেছে এবং এই অনিয়মের সাথে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনার জন্য স্থানীয় পর্যায়ে জোর দাবি উঠেছে।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য