কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়ায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ট্যাপেন্টাডল ও গাঁজাসহ আটক ৩

কুষ্টিয়ায় মাদক চোরাচালানের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে। সম্প্রতি জেলার বিভিন্ন স্থানে পরিচালিত সমন্বিত অভিযানে নিষিদ্ধ ওষুধ ও গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারিকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি), কুষ্টিয়া কার্যালয়। এই কঠোর অভিযান গ্রামীণ জনপদে প্রেসক্রিপশন ড্রাগ ও মাদকদ্রব্যের অবৈধ ব্যবসা দমনে প্রশাসনের অব্যাহত নজরদারিরই প্রতিফলন।
গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জেলার বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় এই বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়। ডিএনসি কুষ্টিয়া কার্যালয়ের একটি বিশেষ দল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার অধীন ঝাউদিয়া মাজপাড়া এবং কুমারখালী থানার অধীন শিলাইদহ মাজগ্রাম এলাকায় পৃথক অভিযান চালায়। তরুণ প্রজন্মের কাছে অবৈধ মাদক সরবরাহকারী স্থানীয় বিতরণ নেটওয়ার্কগুলো গুঁড়িয়ে দিতে এ ধরনের অর্ধ-শহরাঞ্চল ও গ্রামীণ এলাকাগুলো বর্তমানে প্রশাসনের বিশেষ নজরদারিতে রয়েছে।
ঝাউদিয়া মাজপাড়া এলাকায় পরিচালিত অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করে এবং তার কাছ থেকে চিকিৎসা তত্ত্বাবধানের বাইরে প্রায়ই অপব্যবহৃত শক্তিশালী সিন্থেটিক ওষুধ—৫০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করে। আটক ব্যক্তির নাম মো. বিপ্লব হোসেন (২৫), যিনি ইবি থানার ঝাউদিয়া মাজপাড়া এলাকার মো. জিয়ারত হোসেনের ছেলে। এই জব্দের পর ডিএনসির পরিদর্শক মো. আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে স্থানীয় থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।
একই সময়ে শিলাইদহ এলাকায় পরিচালিত পৃথক অভিযানে আরও কিছু ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটের পাশাপাশি ১০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আরও দুজন সন্দেহভাজন কারবারিকে আটক করা হয়: ২৫ বছর বয়সি মো. ইমরান (পিতা মো. জয়নাল গোন্ডা) এবং ২৮ বছর বয়সি মো. চান্দু শেখ, উভয়েই শিলাইদহ এলাকার বাসিন্দা। অপরাধের প্রকৃতি বিবেচনা করে ডিএনসির পরিদর্শক মো. আবুল কালাম আজাদ এবং উপপরিদর্শক মো. আসিফুজ্জামান দ্রুত আইনি প্রক্রিয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক প্রসিকিউশন প্রতিবেদন দাখিল করেন।
দ্রুত প্রশাসনিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান রিফাতের তত্ত্বাবধানে একটি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেন। সংশ্লিষ্ট আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রধান অপরাধীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত পুলিশ মামলা এবং তাৎক্ষণিক লঙ্ঘনকারীদের জন্য মোবাইল কোর্ট পরিচালনার এই দ্বিমুখী পদক্ষেপ আঞ্চলিক জেলাগুলোতে মাদক নির্মূলে রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর একটি কার্যকর ও সুসংহত কৌশলের পরিচায়ক।
Tags :

কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স, কুষ্টিয়া জিলাইভ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর