বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ২,৮৫০ পিস নেশাজাতীয় টাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১২, সিপিসি-১, কুষ্টিয়া ক্যাম্প। এ সময় র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রের মূলহোতা হিসেবে অভিযুক্ত এক ব্যক্তি কৌশলে পালিয়ে যায়। উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ টাপেন্টাডল ট্যাবলেটকে মাদক ব্যবসার বড় চালান বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। র্যাব সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার (১৮ মে) বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১২, সিপিসি-১, কুষ্টিয়া ক্যাম্প কমান্ডারের নেতৃত্বে একটি চৌকস আভিযানিক দল কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর থানাধীন বাড়ইপাড়া ইউনিয়নের বলিদাপাড়া গ্রামে মো. সুলতান মালিথার বসতবাড়ির সামনে দক্ষিণ পাশের উঠানে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালে র্যাবের উপস্থিতি বুঝতে পেরে ঘটনাস্থল থেকে মূল আসামি মো. দিপু মালিথা (২৮) পালিয়ে যায়। তিনি বলিদাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয়ভাবে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে বলে র্যাব জানিয়েছে। তবে ঘটনাস্থল থেকে তার দুই সহযোগীকে আটক করতে সক্ষম হয় র্যাব সদস্যরা। গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মো. ফাহিমুজ্জামান তুষার আব্দুল্লাহ (২১), পিতা ওবাইদুর রহমান, সাং মশান বাজার, বাড়ইপাড়া ইউনিয়ন এবং মো. আরিফুল মোল্লা (৩০), পিতা মৃত আউয়াল মোল্লা, সাং গোপালপুর, তালবাড়িয়া ইউনিয়ন, মিরপুর, কুষ্টিয়া। পরে আটক ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে ২,৮৫০ পিস নেশাজাতীয় টাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া এসব ট্যাবলেট অবৈধভাবে বিক্রি ও সরবরাহের উদ্দেশ্যে মজুদ করা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে র্যাব।
র্যাব জানায়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখতে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, সংঘবদ্ধ অপরাধ, অস্ত্র ও মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে বাহিনীটি। এরই ধারাবাহিকতায় কুষ্টিয়ায় এ মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়। এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত দুই আসামি এবং পলাতক মূল আসামির বিরুদ্ধে কুষ্টিয়ার মিরপুর থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি পলাতক আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব। র্যাব-১২, সিপিসি-১, কুষ্টিয়া সাধারণ জনগণকে মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধ সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে।









