খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ই মে ২০২৬, ১:২৯ এএম

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কোরবানির ঈদ সামনে এলেই বাড়ে কামারপাড়ার ব্যস্ততা। কুষ্টিয়ায় এখন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে দা, বটি, চাপাতি ও ছুরি তৈরির কাজ। লোহা পিটিয়ে দেশীয় অস্ত্র তৈরিতে দম ফেলারও সময় নেই কামারশিল্পীদের। তবে নানা সংকটের মধ্যেও বাপ-দাদার এই পেশা টিকিয়ে রাখার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। হাপরের বাতাসে দাউ দাউ করে জ্বলছে কয়লার আগুন। সেই আগুনে তপ্ত লোহাকে হাতুড়ির আঘাতে পিটিয়ে তৈরি হচ্ছে দা, বটি, চাপাতি আর ছুরি।
কোরবানির ঈদ এলেই কুষ্টিয়ার কামারপাড়াগুলো যেন ফিরে পায় পুরোনো প্রাণচাঞ্চল্য। হাপরের ফুঁস-ফাঁস শব্দ আর লোহা পেটানোর টুং-টাং আওয়াজে মুখর হয়ে ওঠে প্রতিটি কামারশালা। বছরের এই সময়টাকেই ঘিরে সবচেয়ে বেশি কাজের চাপ থাকে কামারশিল্পীদের। পশু কোরবানির সুবিধার্থে তৈরি করা হচ্ছে নানা ধরনের দেশীয় ধারালো অস্ত্র। পাশাপাশি চলছে পুরোনো দা-বটি ও ছুরিতে শান দেওয়ার কাজও। এদিকে প্রয়ােজনীয় কাঁচামালের অভাব ও কারিগরদের মজুরি বৃদ্ধির পাশাপাশি বিদেশী অস্ত্রের আমদানির কারণে হাতে তৈরি অস্ত্রের বিক্রয় মূল্যও কম। তারপরও বাপ-দাদার পেশাকে ধরে রাখতে চাই কামারপাড়ার বাসিন্দারা।
একসময় গ্রামবাংলার প্রতিটি এলাকায় ছিল কামারদের কদর। আধুনিক ও বিদেশি পণ্যের ভিড়ে সেই ঐতিহ্য কিছুটা হারালেও কোরবানির ঈদ এলেই আবারও বাড়ে দেশীয় অস্ত্রের চাহিদা। কামারবাড়িতে দা ও চাপাতি নিয়ে আশা সাইফুল ইসলাম বলেন, কুরবানির ঈদ আসলেই এই অস্ত্র গুলো ব্যাবহার হয়। তাই আমিও ছুরি ও ডাসা ধার কাটাতে এসেছি। তবে এ বছরে কামার শালার জিনিসের দামটা একটু বেশি। তবে দেশীয় দা ও চাপাতি দিয়ে পশু কোরবানি ও মাংস কাটাকাটি অনেক সহজ হয়।
কুষ্টিয়া বিসিকের উপমহাব্যবস্থাপক কর্মকর্তা মোঃ আশানুজ্জামান বলেন, ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা ও সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা হবে। জেলা জুড়ে প্রায় দুইশ’ কামারশালায় এক হাজারের বেশি মানুষ এই পেশার সঙ্গে জড়িত। কোরবানির ঈদকে ঘিরে সাময়িকভাবে বাজার চাঙ্গা হলেও বছরের অন্য সময় তেমন কাজ থাকে না। তাই শত সংকটের মধ্যেও ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার দাবি কামারশিল্পীদের।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য