কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর পশুর হাটগুলোতে বাড়ছে কোরবানির পশুর সমাগম। দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতা-বিক্রেতারা ভিড় করলেও কাঙ্ক্ষিত বেচাকেনা না হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন খামারি ও ব্যবসায়ীরা। পশুর দাম নিয়ে অসন্তুষ্টি রয়েছে উভয় পক্ষের মধ্যেই। রোববার বিকেলে কুমারখালী শহর-পান্টি সড়কের জয়বাংলা বাজার সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী যদুবয়রা সাপ্তাহিক পশুহাট ঘুরে দেখা যায়, মাঠজুড়ে সারিবদ্ধভাবে বাঁধা রয়েছে বিভিন্ন আকারের গরু ও ছাগল।
হাটজুড়ে মানুষের উপচেপড়া ভিড় থাকলেও তুলনামূলক কম হচ্ছে কেনাবেচা। বিক্রেতাদের অভিযোগ, গোখাদ্যের উচ্চমূল্য ও দীর্ঘদিন পরিচর্যার কারণে পশু পালনে খরচ বেড়েছে। কিন্তু হাটে এসে মিলছে না সেই অনুপাতে দাম। ফলে লোকসানের শঙ্কায় রয়েছেন তারা। কৃষক হযরত আলী বলেন, ‘প্রায় তিন মণ ওজনের একটি ষাঁড় এনেছি। সারাদিন চলে গেল তবুও বেচা হলোনা। কেউ ভালো দামই বলেনি। এক লাখ ২০ হাজার টাকার গরু ৭৫ হাজার দাম হচ্ছে। এবারের মতো এতো মন্দা হাট আগে দেখিনি।’
জগন্নাথপুর ইউনিয়নের দয়রামপুর গ্রামের খামারি তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, ‘খামারে ২১টি গাভী রয়েছে। টাকার প্রয়োজন হওয়ায় সাড়ে তিন মণ ওজনের একটি বকনা গরু বিক্রির জন্য হাটে এনেছি। কিন্তু হাটে গরুর দাম নেই। ৭০-৮০ হাজার টাকা দাম বলছে। এক লাখ ২৫ হাজার হলে বিক্রি করব।’ যদুবয়রা ইউনিয়নের কৃষক আমজাদ আলী বলেন, ‘প্রায় সাত মণ ওজনের একটি ষাঁড়ের দাম উঠেছে এক লাখ ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা। অথচ অন্তত দুই লাখ টাকা হলে কিছুটা লাভ হতো।’ খোকসা থেকে আসা ক্রেতা রিপন হোসেন বলেন, ‘বাজারের পরিবেশটা খুব সুন্দর। অনেক পশু উঠেছে। দামও বেশ সস্তা। সুলভমূল্যে একটি কোরবানির ষাঁড় কিনেছি।’
হাটের ইজারাদার আবু সেলিম বিশ্বাস বলেন, ‘রোববার প্রায় ৪৮৭ টি গরু এবং ৬৯৬টি ছাগল বেচাকেনা হয়েছে। গতবছরের তুলনায় বেচাবিক্রি কিছুটা কম। তবে সামনের হাটে কয়েক হাজার পশু বেচাবিক্রির প্রত্যাশা রয়েছে।’ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘ঈদের এখনও কয়েকদিন বাকি। অনেকেই শেষ মুহূর্তে পশু কেনেন। এখন মূলত মানুষ হাটে এসে পশু যাচাই-বাছাই করছেন। এ বছর উপজেলায় তিন হাজার ৫৯৭টি খামারে প্রায় ৩০ হাজার পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। স্থানীয় চাহিদা রয়েছে প্রায় ১৮ হাজার পশুর। গত বছরের তুলনায় পশুর সরবরাহও বেশি রয়েছে।
