কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ থানায় মামলা রুজুর ১৯ দিন অতিবাহিত হলেও ঘটনাস্থলে যাননি তদন্ত কর্মকর্তা কুমারখালী থানার এসআই আ:রশিদ খান। এ সময়ে বাদির ফোন ধরেননি তিনি, বাদি থানায় গেলে দেখা করেন না বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনার বিবরনে জানা যায় চলতি অক্টোবর মাসের ২/১০/২৬ কুমারখালী থানার চাপড়া ইউনিয়নের রাজপাড়া স্ওাতা গ্রামের জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার জের ধরে বদির মেম্বার ও চাপড়া ইউনিয়ন ৫ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার -সোবহান গ্রুপের রক্তক্ষয়ি সংংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বদির মেম্বারসহ ৯ জন গুরুত্বর আহত হয়। বাদি পক্ষের আহতরা কুমারখালী হাসপাতালে ৫ দিন এবং গুরুত্বর আহত পলাশ কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬ দিন চিকিতসা গ্রহন করে। এবং সোবাহান গ্রুপের কয়েকজন হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিতসা নেন।
এ বিষয়ে বদির মেম্বার এর ছেলে জসিম উদ্দিন বাদী হয়ে ১৫ জনকে আসামী করে কুমারখালী থানায় মামলা দায়ের করেন মামলা নম্বর ২৭৫ তারিখ ০৫/১০/২৬ ধারা ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩২৪/৩২৬/৩০৭/৩৮৯/৪২৭/৫০৬/১১৪।
মামলার আসামীরা হচ্ছে আব্দুস সোবাহান (৪৭), পিতা-মৃত আব্দুর জিলান, মোঃ তৈহিদুর রহমান বরুন (৪০), পিতা- মৃত মসলেম উদ্দিন, শেখ হাসনাইন সৈকত (২৮), পিতা- আব্দুস সোবাহান, মোঃ রাজু আহম্মেদ (৫২), পিতা- মৃত আজমল হোসেন, মোঃ বিপুল হোসেন (৪৩), মোঃ মিজানুর রহমান বাবু (৫০), উভয় পিতা- মোফাজ্জেল হোসেন, মোঃ ইকরামুল শেখ (৩৬), পিতা- মোঃ মকছেদ হোসেন, ইনামুল হোসেন (৩৭), পিতা- করিম শেখ, মোঃ সিরাজ শেখ (৬৫), মোঃ নবীর হোসেন (৪৫), উভয় পিতা- মৃত কালাম হোসেন, মোঃ আনোয়ার হোসেন (৬২), পিতা- মৃত আজমল হোসেন, সাব্বির আহম্মেদ বাপ্পি (২৮), পিতা- মোঃ আনোয়ার হোসেন, সজিব হোসেন (২৬), মোঃ আয়ুব আলী (৫২), পিতা- মৃত কালাম শেখ, সর্ব ) সাং- সাঁওতা রাজপাড়া, রফিকুল ইসলাম (৪৮), পিতা- আহম্মদ খা, সাং- কবুরাট (চাঁপড়া ইউনিয়ন), থানা-কুমারখালী, জেলা- কুষ্টিয়াগন সহ অজ্ঞাতনামা ১০/১৫ জন।
মূল তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ১৪ জনের ঠিকানা সাঁওতা রাজপাড়া, চাপড়া ইউনিয়ন, কুমারখালী, কুষ্টিয়া। রফিকুল ইসলামের ঠিকানা কবুরাট, চাপড়া ইউনিয়ন, কুমারখালী, কুষ্টিয়া।
অন্য দিকে সোবাহান বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামী করে পাল্টা মামলা দায়ের করেন। মামলার বাদী জসিম উদ্দিন জানান মামলা হওয়ার পর থেকে কয়েকদিন থানায় গেলেও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আ. রশিদ খান দেখা করেননি ফোন করলে তিনি ধরেন না। এদিকে মামলার আসামীরা সঙ্গবদ্ধ হয়ে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিচ্ছে আমাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে।
মামলার বাদি আরো জানান আমরা ওদের মামলায় ৭ দিন জেলখেটে সবাই জামিন নিলেও আনোয়ার- সোবহান ওরফে সাবান গ্রুপের লোকজনের ভয়ে বাড়িতে থাকতে পারছি না। অন্যদিকে ওরা মামলার আসামী হয়ে বাড়িতে থেকে অস্ত্রের মহড়া দিচ্ছে অথচ পুলিশ কিছুই বলছে না। মাঝে মাঝে বাধবাজার ক্যাম্প পুলিশ এসে আসামীদের সাথে গল্প করে চলে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাধবাজার পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ মোহাম্মদ আলী জানান উক্ত ঘটনা আমি শুনেছি মামলার কপি আমার কাছে নেই, মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই রশিদ খান বলতে পারবেন এই মামলার আসামী ধরার বিষয়ে তিনি আমাকে কিছু জানান নাই। এলাকায় যেয়ে আসামীদের সাথে গল্প করার বিষটি তিনি অস্বীকার করেন।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আ. রশিদ খান কে ফোন করলে পরিচয় পাওয়ার পর ফোন কেটে দিয়ে বন্ধ করে দেন।
এ বিষয়ে কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ জামাল উদ্দিন মামলা নাম্বার শুনেই বলেন এই মামলার বাদি খুব খারাপ বিশ্ববাটপার এমন কেন বলছেন জানতে চাইলে বলেন কোন কারন নাই, মামলার তদন্ত চলছে আইও এর সাথে কথা বলেন বলে ফোন কেটে দেন।
এ বিষয়ে কুমারখালী থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কুষ্টিয়া সদর সার্কেল এএসপি প্রনব কুমার সরকারকে ফোন করলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নাই।
উক্ত মামলার বিষয়ে কুষ্টিয়ার এসপি আমিনুল ইসলাম জানান কুমারখালী থানার ২৭৫ নাম্বার মামলার বিষয়টি আমি অবগত আইনানুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করার বিষটি আমি দেখছি।









