যানজট-জলাবদ্ধতা-মশার উপদ্রব
বিশেষ প্রতিবেদন ॥ ঐতিহ্য, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ কুষ্টিয়া। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত শিলাইদহ এবং বাউলসম্রাট ফকির লালন শাহের সাধনভূমির পরিচয়ে দেশজুড়ে সুপরিচিত এই জনপদ। দেশের প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ পৌরসভাগুলোর অন্যতম কুষ্টিয়া পৌরসভা। ২১টি ওয়ার্ডে প্রায় ২ লাখ ২৯ হাজার ৩৪০ জন মানুষের বসবাস এই শহরে। অথচ ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও নগরায়ণের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নাগরিক সেবার মান কতটা উন্নত হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যানজট, খানাখন্দে ভরা সড়ক, সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা, মশার উপদ্রব এবং নাগরিক সেবায় ভোগান্তি—সব মিলিয়ে আধুনিক নগরসুবিধা নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে বাসিন্দাদের মধ্যে।
নিয়মিত পৌরকর, হোল্ডিং ট্যাক্স ও বিভিন্ন ফি পরিশোধ করেও প্রত্যাশিত সেবা না পাওয়ার অভিযোগ করছেন নাগরিকেরা। কোথাও সড়কের বেহাল দশায় যানবাহন চালানো কঠিন, কোথাও বৃষ্টির পানি জমে দোকানপাট ও চলাচলের পথ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আবার জন্মনিবন্ধনের ভুল সংশোধন কিংবা পানির বিল জমা দিতেও সময় ও অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কুষ্টিয়া পৌরসভার উন্নয়ন পরিকল্পনা, সেবার মান এবং জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
কুষ্টিয়া শহরের অন্যতম বড় সমস্যা যানজট। বিশেষ করে বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মজমপুর বাস ডিপো এলাকায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, লোকাল বাস ডিপোতে প্রবেশের সময় আড়াআড়িভাবে সড়কে অবস্থান নেওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই যানজট তৈরি হয়। পাশে ট্রাফিক পুলিশ থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ে না বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন চালক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গাড়িচালক বলেন, “শহরের বাইরে বাস টার্মিনাল থাকা সত্ত্বেও শহরের ভেতরে বাস ডিপোকে ঘিরে যানজট কেন হবে? কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে টার্মিনাল নির্মাণের উদ্দেশ্যই বা কী, যদি যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা নিশ্চিত না হয়?”
এক মোটরসাইকেলচালক বলেন, দুপুর ও সন্ধ্যায় বাস ঘোরানোর কারণে ওই এলাকায় প্রায়ই যানজট তৈরি হয়। কলেজ মোড় থেকে হাসপাতাল মোড় পর্যন্ত সড়কেও যানজটের ভোগান্তি নিত্যদিনের। এতে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ যাত্রীদের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বাণিজ্যিক এলাকায় যানবাহনের চাপ বাড়লেও পরিকল্পিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, পর্যাপ্ত পার্কিং এবং পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। যানজট নিরসনে বাস চলাচল ও টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা নতুন করে পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
শহরের বিভিন্ন সড়কের বেহাল দশা নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে। চামড়াপট্টি থেকে কালিশংকরপুর জামতলার মোড় পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্ত ও অসমতল অংশ থাকায় যানবাহন চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। একই পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন বজলুর মোড় থেকে নিশান মোড়, নিশান মোড় থেকে জেলখানার মোড় এবং চামড়াপট্টি থেকে রাজারহাট মোড় হয়ে ছোট ওয়ালেসের সামনে দিয়ে চালের বর্ডার পর্যন্ত সড়কে চলাচলকারীরা।
এক রিকশাচালক বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। মহাজনের কাছ থেকে রিকশা ভাড়া নিয়ে প্রতিদিন আয় করে সংসার চালাই। রাস্তার কারণে কখনো চাকা বাঁকা হয়, কখনো অন্য যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়। মেরামতের খরচ নিজের পকেট থেকে দিতে হয়। সারাদিনের আয়ের একটা বড় অংশই এভাবে চলে যায়।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গাড়িচালক বলেন, প্রতিবছর পৌরকর পরিশোধ করেও সড়কের বেহাল দশার পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছেন না তাঁরা। সড়কের গর্ত এড়িয়ে গাড়ি চালাতে গিয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি ও যানবাহন মেরামতের খরচ দুটোই বাড়ছে।
সড়কের এমন অবস্থা শুধু চলাচলের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে না; স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, গণপরিবহন ও নগরজীবনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। কোন সড়ক কত দিন ধরে সংস্কারের অপেক্ষায় রয়েছে, কোথায় জরুরি মেরামত প্রয়োজন এবং বরাদ্দ অনুযায়ী কাজ হচ্ছে কি না—এসব বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা করছেন নাগরিকেরা।
কুষ্টিয়া পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বারো শরীফের দরবারের সামনে থেকে কলেজ মোড় এবং আপু চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনের এলাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যায়। এতে দোকানপাট ও চলাচলের পথে ভোগান্তি তৈরি হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকানদার বলেন, “একটু বৃষ্টি হলেই দোকানে পানি ঢুকে পড়ে। এতে মালামাল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। পৌরকর ও ট্রেড লাইসেন্সের ফি নিয়মিত দিচ্ছি, কিন্তু সমস্যার স্থায়ী সমাধান পাচ্ছি না।”
নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নিয়মিত নালা পরিষ্কার এবং বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা ছাড়া জলাবদ্ধতা নিরসন সম্ভব নয়। শহরের কোন কোন এলাকায় পানি জমছে, ড্রেনের ধারণক্ষমতা কতটুকু এবং পানি নিষ্কাশনের প্রতিবন্ধকতা কোথায়—এসব চিহ্নিত করে সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।
মশা নিধন কার্যক্রমের পরিধি, ওষুধের ব্যবহার এবং জনবল নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, পৌরসভার ২১টি ওয়ার্ডের জন্য মাত্র ২১ লিটার মশা নিধনের ওষুধ ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে। গত ২১ জুলাই থেকে প্রায় দুই মাস কার্যক্রম বন্ধ থাকার অভিযোগও রয়েছে। এ ছাড়া মাত্র আটজন কর্মী দিয়ে মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনার কথা জানা গেছে। তাঁদের মাথাপিছু দৈনিক বেতন-ভাতা ৩১৫ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
একটি ওয়ার্ডে এক ঘণ্টারও কম সময়ে ওষুধ প্রয়োগের অভিযোগ তুলে নাগরিকদের প্রশ্ন, এত অল্প সময়ে পুরো ওয়ার্ডে কার্যকরভাবে মশা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব কি না। কোন এলাকায় কতটুকু ওষুধ প্রয়োগ করা হচ্ছে, কর্মীদের দায়িত্ব বণ্টন কীভাবে হচ্ছে এবং নির্ধারিত কার্যক্রম নিয়মিত বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না—এসব তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ বলছেন, আগে নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার করা হলেও এখন তা যথাযথভাবে হচ্ছে না। ফলে মশার উপদ্রব বাড়ছে এবং ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।
কুষ্টিয়া পৌরসভার প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, মশা নিধনের কার্যক্রম প্রতিদিনই চলমান রয়েছে। এটি পৌরসভার নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। মশা নিয়ন্ত্রণে রাসায়নিক প্রয়োগের মাধ্যমে ফগার মেশিন ব্যবহার এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার—এই দুই পদ্ধতিতে কাজ করা হচ্ছে।
তিনি জানান, ইতোমধ্যে পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে স্কুল, ড্রেন ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। মশার প্রজনন রোধে জনসচেতনতা তৈরিতে মাইকিংসহ বিভিন্ন প্রচারণা চালানো হচ্ছে। জেলা তথ্য অফিসের পক্ষ থেকেও মাইকিং করা হচ্ছে। পৌরসভার পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক প্রচারণা আরও জোরদার করা হবে।
প্রশাসক আরও বলেন, বাড়ির আঙিনা, ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র কিংবা অন্য কোথাও যেন পরিষ্কার পানি জমে না থাকে, সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। জমে থাকা পানি মশার বংশবিস্তারের অন্যতম প্রধান উৎস। পৌরবাসী নিজ নিজ বাড়ি ও আঙিনা পরিষ্কার রাখবেন, আর পৌর কর্তৃপক্ষ বাইরের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব পালন করবে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
পৌরসভার ডিজিটাল নাগরিক সেবার মান নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে। জন্মনিবন্ধন করতে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে জমা দেওয়ার পরও সনদ হাতে পেয়ে নামের বানান কিংবা বাবা-মায়ের নামের ভুল দেখতে পাওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। পরে এসব ভুল সংশোধন করতে দিনের পর দিন, এমনকি মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলে তাঁদের দাবি।
জাহিদ হাসান নামে এক ভুক্তভোগী বলেন, তাঁর মেয়ের জন্মনিবন্ধন সনদে প্রথমে বাংলা নামের ভুল দেখতে পান। পরে ইংরেজি অংশে মায়ের নামেও ভুল ধরা পড়ে। তাঁর দাবি, আবেদনপত্রে সব তথ্য ঠিকভাবে পূরণ করে যাচাই করেই জমা দেওয়া হয়েছিল। তাহলে ভুল কোথায় হচ্ছে, সেই প্রশ্নের জবাব চান তিনি।
জন্মনিবন্ধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ নথিতে ভুল থাকলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি, পাসপোর্ট তৈরি এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কাজে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই আবেদন যাচাই, তথ্য এন্ট্রি এবং সনদ সরবরাহের প্রতিটি ধাপে নির্ভুলতা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তিতে নির্দিষ্ট সময়সীমা ও সহজ অভিযোগ ব্যবস্থাও প্রয়োজন।
ডিজিটাল যুগেও পৌরসভার পানির বিল জমা দিতে ব্যাংকে যেতে হয় বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। তাঁদের মতে, অনলাইনে বিল পরিশোধের ব্যবস্থা না থাকায় সময় ও অর্থ—দুটিই নষ্ট হচ্ছে।
হাউজিং এলাকার ডি ব্লকের বাসিন্দা রহিম বলেন, তাঁর মাসিক পানির বিল ৬২০ টাকা। এই বিল দিতে ব্যাংকে যাতায়াতের জন্য যে রিকশাভাড়া খরচ হয়, তা বিলের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ। যানজটের কারণে বাড়তি সময়ও নষ্ট হয়।
পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সূচনা আফরিন বলেন, তাঁর স্বামী চাকরির কারণে শহরের বাইরে থাকেন। তাই প্রতি মাসে তাঁকেই ব্যাংকে গিয়ে পানির বিল জমা দিতে হয়। এতে প্রায় অর্ধবেলা চলে যায়। ঘরের কাজ ও সন্তানদের সামলানোর পাশাপাশি শুধু বিল দিতে এত সময় ব্যয় করা তাঁর জন্য কষ্টকর।
তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে পানির বিল পরিশোধের জন্যও যদি ব্যাংকে যেতে হয়, তাহলে ডিজিটাল সেবার সুফল কোথায়?
নাগরিকদের মতে, অনলাইন ব্যাংকিং, মোবাইল আর্থিক সেবা কিংবা সমন্বিত ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে পানির বিল পরিশোধের সুযোগ চালু করা হলে এ ভোগান্তি অনেকটাই কমতে পারে।
একটি আধুনিক পৌরসভা গড়ে তুলতে শুধু সড়ক নির্মাণ কিংবা বিচ্ছিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন পরিকল্পিত নগরায়ণ, কার্যকর ড্রেনেজ, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নিরাপদ সড়ক, পর্যাপ্ত পার্ক ও উন্মুক্ত স্থান এবং জনবান্ধব ডিজিটাল সেবা।
কুষ্টিয়া পৌরসভার নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে ওয়ার্ডভিত্তিক সমস্যা চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার নির্ধারণ, উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি প্রকাশ, বরাদ্দ ও ব্যয়ের তথ্য সহজলভ্য করা এবং নাগরিকদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। পাশাপাশি যানজট নিরসনে ট্রাফিক বিভাগ, পরিবহনসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও পৌর প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
কুষ্টিয়া শুধু একটি জেলা শহর নয়। এটি বাংলাদেশের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এই শহরের ঐতিহ্য ও গুরুত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।
নাগরিকদের প্রত্যাশা, উন্নয়ন যেন কাগজে-কলমে কিংবা বিচ্ছিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে সীমাবদ্ধ না থাকে। নিয়মিত সেবা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে কুষ্টিয়া হয়ে উঠুক পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য শহর।








