কুমারখালীতে ভিজিএফ কার্ড বণ্টন নিয়ে তোলপাড় - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুমারখালীতে ভিজিএফ কার্ড বণ্টন নিয়ে তোলপাড়

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মে ২৫, ২০২৬

দুস্থদের চালে রাজনৈতিক ভাগ! 

 

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দুস্থ, অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের সহায়তায় সরকারের ভিজিএফ কর্মসূচির চাল বরাদ্দকে ঘিরে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় রাজনৈতিক ভাগাভাগির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি এই সহায়তা কর্মসূচির কার্ড দলীয় বিবেচনায় বণ্টনের অভিযোগে এলাকাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে উপজেলা বিএনপি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বরাদ্দে কুমারখালী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের জন্য মোট ১০ হাজার ৪১১টি ভিজিএফ কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২নং শিলাইদহ ইউনিয়নের জন্য এসেছে ৮৮৪টি কার্ড। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, এসব কার্ড প্রকৃত দুস্থ, হতদরিদ্র, কর্মহীন ও অসহায় পরিবারের মধ্যে জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বিতরণের কথা। তবে অভিযোগ উঠেছে, বাস্তবে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে এসব কার্ড ভাগ করে দেওয়ার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে।

বিশেষ অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি অনানুষ্ঠানিক সমঝোতার মাধ্যমে ভিজিএফ কার্ড ভাগাভাগির তালিকা নির্ধারণ করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, বিএনপি ৪৮ শতাংশ, জামায়াতে ইসলামী ৩৫ শতাংশ, এনসিপি ১০ শতাংশ, গণঅধিকার পরিষদ ৫ শতাংশ এবং ইসলামী আন্দোলন ২ শতাংশ কার্ড পেয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—সরকারি ত্রাণ কি রাজনৈতিক দলের কোটায় বণ্টন করা যায়?

এদিকে গত ২১ মে, কুমারখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের যৌথ স্বাক্ষরে শিলাইদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এর কাছে একটি আবেদন জমা দেওয়া হয়। ওই আবেদনে মোট বরাদ্দের ২০ শতাংশ হিসেবে ১৭৬টি ভিজিএফ কার্ড চাওয়া হয় বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, পরে ২৩ মে শিলাইদহ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ১৭৫টি ভিজিএফ কার্ড বুঝে নেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে দলীয় পরিচয়ে আবেদন করে সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা গ্রহণ কতটা বৈধ ও নীতিসম্মত।

এ বিষয়ে কুমারখালী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. লুৎফর রহমান বলেন, “আওয়ামী লীগের আমলে আমাদের লোকজন কিছুই পেত না। তখন তারা নিজেরাই বেশিরভাগ কার্ড নিয়ে নিত। এবার আমরা আবেদন করেছি, যাতে আমাদের দলের গরিব লোকজনও কিছু সুবিধা পায়। মিটিংয়ে বিষয়টি আলোচনা হয়েছে। এমপি সাহেবও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।” তিনি আরও বলেন, “২০ শতাংশ এমপি সাহেব নিচ্ছেন, আর ২০ শতাংশ আমরা সাংগঠনিকভাবে পেয়েছি। কার্ডগুলো গরিব মানুষই পাবে।” তবে রাজনৈতিক দলের নামে আবেদন করে সরকারি ভিজিএফ কার্ড গ্রহণ নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কিনা এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়িয়ে যান তিনি। পরে বলেন, “ডিও ইউএনওর নামে হয়, পরে ইউএনও চেয়ারম্যানকে দেয়। চেয়ারম্যান তালিকা সাজাবে, সেখান থেকে কিছু কার্ড আমরা পাব।”

অন্যদিকে শিলাইদহ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আব্দুস শুকুর বলেন, “ভিজিএফ চাল বিতরণ উপজেলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হয়েছে। সরকারি নীতিমালায় দলীয়ভাবে কার্ড বণ্টনের কোনো সুযোগ নেই। এসব কার্ড দুস্থদের মাঝে চেয়ারম্যানের মাধ্যমে বিতরণের কথা।” তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত ১২ জন সদস্য তালিকা জমা দিয়েছেন। তবে কোনো রাজনৈতিক দলের বরাদ্দ তালিকা অফিসে জমা পড়েনি।

“সবাই জনস্বার্থে আবেদন করেছে বলেই হয়তো এমন হয়েছে। শুধু আমাদের এলাকায় নয়, চারদিকে একই অবস্থা,”বলেন তিনি। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, ভিজিএফ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রকৃত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো। সেখানে রাজনৈতিক পরিচয়কে প্রাধান্য দিলে প্রকৃত দরিদ্ররা বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। তারা এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।