বটতৈল ইউনিয়নে প্রায় অর্ধশত মাদক ব্যবসায়ী বেপরোয়া! - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

বটতৈল ইউনিয়নে প্রায় অর্ধশত মাদক ব্যবসায়ী বেপরোয়া! 

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মে ২৫, ২০২৬

প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি সচেতন নাগরিকের

 

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ এক সময়ের কর্মচাঞ্চল্য-শান্ত ও জনপদ হিসেবে পরিচিত কুষ্টিয়া উপজেলার বটতৈল ইউনিয়ন এখন মাদকের ভয়াল থাবায় আতঙ্কিত। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গায় প্রায় অর্ধশত মাদক ব্যবসায়ী প্রকাশ্যে ও গোপনে ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদক বিক্রি করে চলেছে। এই মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ, কেনা-বেচা ও মাদক সেবন নিয়ে মা’রামারি যেনো নিত্যদিনের ঘটনা। এমন ঘটনার পরও প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে তেমন সম্মিলিত উদ্যোগ না থাকায় এবং দিন দিন মাদক কারবারিদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষ।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, মাদক ব্যবসায়ীরা শুধু নিজেদের অপরাধচক্র বিস্তৃত করছে না, বরং এলাকার কিশোর- তরুণ সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের অনেকেই সহজেই মাদকের নাগাল পাচ্ছে, যা সচেতন অভিভাবকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সকাল- সন্ধ্যা সব সময় বটতৈল ইউনিয়নের কিছু নির্দিষ্ট স্থানে প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা হয়। প্রতিবাদ করলে মাদক কারবারিদের পক্ষ থেকে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাও ঘটে। ফলে অনেকে মুখ খুলতে সাহস পান না।

সুত্র জানায়, বটতৈল ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে ছোট বড় মাদক ব্যবসায়ী থাকলেও খাজানগরেই রয়েছে বেশ কয়েকজন মাদকের ডিলার। তারা প্রতিনিয়ত কুষ্টিয়ার মিরপুরের মধ্যবর্তী স্থানের রেল লাইনে মাদকের লেনদেন করে চলেছে। কবুরহাট খাজানগর ও স্বর্গপুরের মাঝের মাঠ মাদক সেবন ও বিক্রির যেনো নিরাপদ স্থান। এ ছাড়াও বটতৈল শেনের চাতাল এলাকা হয়ে জিকে খালের বটতৈল মোড়, সর্দারপাড়া, এসো গড়ি হয়ে কয়েক কিলোমিটার জুরে বলভপুর রেল ব্রিজ-জিকে খাল পর্যন্ত প্রতিনিয়ত চলে ভ্রাম্যমাণ মাদক বিক্রেতাদের আনাগোনা ও প্রকাশ্যে মাদকের বেচা-কেনা।

স্থানীয়রা জানান, এক সময় যারা মাদক সেবন করতো তারা এখন মাদক ব্যবসায়ী, কেউ কেউ আবার মাদকের ডিলার! মাদকের সংবাদ প্রকাশের পর যদিও প্রশাসনের অভিযানে ১/২ মাদক কারবারি আটক হয়, তবে খুব বেশীদিন আটক থাকতে দেখা যায় না তাদের। ফিরে মাদক ব্যবসায়ে আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে। মাদক পাইকারী ব্যবসায়ীরা জালের মতো ছড়িয়ে পড়ছে ইউনিয়ন জুরেই। যুব সমাজ যাচ্ছে রসাতলে, সব চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্কুল শিক্ষার্থীরা! ডজন খানেক মাদক সেবনকারী এবং অনুসন্ধানে জানাগেছে, পাইকারি মজুদ রেখে খুচরা বিক্রি করে দীর্ঘদিনের মাদক ব্যবসায়ী মজিবর ড্রাইভার, ইয়াবা ও টপেন্ডাল ব্যবসায়ী মঙ্গল কাঙালের পুত্র তুষার,তার প্রতি দিন হাজার হাজার টাকা দামের টপেন্ডাল টেবলেট খুচরা ও পাইকারি  বিক্রি করে।

৯নম্বর ওয়ার্ডের করিমের ভাই শফিক,নওয়াব আলী মাঝির পুত্র আজিজ, সালাম, মাহাবুব ডাক্তার,খাজানগর বাজার পাড়ার মৃত মেছের আলী ছেলে কোহিনুর, উত্তর পাড়ার রুবেল মিস্ত্রী, লিয়াকত সাধু ও তার ছেলে সাগর বাদশা। বটতৈলের মৃত আব্দুল্লাহ’র ছেলে বুলবুল, মোহাম্মদ এর ছেলে বিপ্লব হোসেন বিপু, ইসরাইল, আশরাফ,  নুরুজ্জামান, মূতূ ননীর ছেলে শ্রী পরিতশ,  মালেক ওরফে বাবা মালেক। বটতৈল চার মাইল নতুন পাড়ার  বিল্লালের ছেলে মাদকের ডিলার রাশিদুল। দোস্তপাড়ার দিদার কসাইয়ের ছেলে মাদকের ডিলার আকাশ আরেক ডিলার কুঠি।

কবুর হাট ক্যানালপাড়ার রাজ্জাক,পুল পাড়ার টুটুল,ভাদালিয়া যেতে দুলাল ল্যাংড়া, শিমুলিয়া আজগর খাজানগরের মতির ছেলে বাদশা, খাজানগর নয় নম্বর ওয়ার্ডের গফুর ব্যাপারীর ছেলে রহুল ফটকে,আরব বাংলা মিলের কাছে রাজা ফকিরের পুত্র শিপন, মাদক সম্রাট বাদশা, সে আটক হলে তার মাদকের কারবারি চালান স্ত্রী রুপালী খাতুন। মিজানুর ও তার পুত্র, খাজানগর হাট পাড়ার সেলিম মোল্লা নিয়মিত মাদকের আসর বসিয়ে চালায় মাদকের ব্যবসা।  কবুরহাট মন্ডল পাড়ার সফির ছেলে মাদকের ডিলার সবুজ।  সিরাজের ছেলে রফিকুল, ফরজ আলী নেংড়া, এবং তার ভাই জদ আলীর বাড়িতে বসে নিয়মিত মাদকের আসর।

মজনু শেখের ছেলে রায়হান জোয়াদ্দার ওরফে রায়হান ড্রাইভার। সে নিয়মিত মাদকের চালান আনা নেয়ায় ব্যস্ত থাকে। তার চাচাত ভাই ছাত্রলীগ নেতা শাকিলের হাত ধরে সে মাদকের ব্যবসায়ে নামে। খাজানগর ব্যাপাড়ী পাড়া ও কাতলমারীর আবুল কালাম মন্ডলের ছেলে  লালচাঁদ মন্ডল, আবু কালামের ছেলে শাহ আলম, মৃত সিরাজ সদ্দারের ছেলে জাহাঙ্গীর চায়ের দোকানে গোপনে চলে গাজা কেনা বেচা, মৃত রবের ছেলে সিপন, রফিকুল সাধু, রেজজেক ফকিরের ছেলে আলম সাধু। তার বাড়িতে সব সময় মাদকের আসর বসিয়ে চলে কেনা বেচা। হাফিজ উদ্দিনের ছেলে মনির পাল, সুবাহান সাধু, গাঁজা বারেকের ছেলে জুয়েল ড্রাইভার, সআহাজুল ভান্ডারীর ছেলে সোহেল, আলমগীর ঢালী, কবুরহাট মাদ্রাসা পাড়ায় আজগর দয়ালের ছেলে আসলাম ।

পোরাদহ বল্লভপুরের রাজু। কাতলমারীর সেলিম মৃধা,গোলবার সর্দারের পাড়ার সেলিম ড্রাইভার, জামান মোল্লা, রফিকুল সাধুর বাড়িতে প্রতিনিয়ত আসর বসিয়ে চলে মাদক সেবন। এলাকার সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারি ছাড়া এ সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তারা দ্রুত তালিকা প্রস্তুত করে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।