কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় সাড়ে পাঁচ বিঘা জমি দখল নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে উপজেলার চাপড়া ইউনিয়েেনর ধর্মপাড়া এলাকায় ঘটে এ ঘটনা। আহতরা হলেন ধর্মপাড়া গ্রামের আশরাফুলের স্ত্রী কাঞ্চন খাতুন, মিজানুর রহমানের স্ত্রী লিপি খাতুন, সবুজের স্ত্রী জেসমিন খাতুন ও ভাঁড়রা গ্রামের রব্বেল শেখের ছেলে মো. সজুন। তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
জানা গেছে, ধর্মপাড়া মৌজায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় সাড়ে পাঁচ বিঘা কৃৃষি জমি আছে। প্রায় ৩০ বছর ধরে ভাঁড়রা গ্রামের মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও তার স্বজনরা উক্ত জমি ভোগদখল করে আসছেন। কিন্তু কয়েকদিন আগে জালাল উদ্দিন ও তার লোকজন উক্ত জমি দখল করে ধানের চারা রোপর করেছেন। এ নিয়ে উত্তেজনা চলছিল। বৃহস্পতিবার সকালে জিন্না ঢাল, সরকি, হাঁসুয়াসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জমি পুনরায় দখল করতে গেলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এতে জালাল গ্রুপের তিন নারী ও জিন্নাহ গ্রুপের একজন আহত হন। আহত কাঞ্চন খাতুন বলেন, সকালে জিন্না তার লোকজন নিয়ে এসে আমাদের ঘরবাড়িতে হামলা চালিয়েছে। আমার মারধর ও কুপিয়ে আহত করেছে। আহত সুজন বলেন, সকালে বাজার থেকে বাড়ি যাওয়ার সময় জালালের লোকজন আমাকে মারধর করে টাকা পয়সা ছিনিয়ে নিয়েছে। আমি এর বিচার চাই। জালাল উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জিন্নাহ সরকারি জমি একাই ভোগদখল করে আসছে। এখন বৈধ কাগজপত্রাদি নাই। সেজন্য বসাবসি করে জমির কিছু অংশে আমরা ধানের চারা রোপন করেছি। সেজন্য আজ সকালে দেশীয় অস্ত্রসহ হামলা করেছে।
এতে আমার তিনজন আহত আছে। থানায় মামলা করা হবে। প্রতিপক্ষের মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, ৩০ – ৪০ বছর ধরে জমি আমাদের দখলে। ডিসিআর কাটা আছে। সেখানে জালাল তার লোক দিয়ে ধানের চারা রোপন করেছে। এ নিয়ে আজ সকালে ওরা হামলা করলে একটু ঝামেলা হয়েছে। সরকারি জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এমন সংঘর্ষের ঘটনায় এখনও কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বললেন থানার ওসি জামাল উদ্দিন।









