ইবি প্রতিনিধি ॥ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ৫৩৭ কোটি টাকার চলমান মেগা প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন ১০টি বহুতল ভবনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই কাজ করছেন নির্মাণশ্রমিকরা। প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সামগ্রীর অভাবে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ শ্রমিকদের। তাদের দাবি, একাধিকবার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের মীরমুগ্ধ সরোবর সংলগ্ন এলাকায় নির্মাণাধীন একটি ১০ তলা ভবনের অষ্টম তলায় বাইরের দেয়ালে প্লাস্টারের কাজ করছেন কয়েকজন শ্রমিক।
তবে তাদের কারও মাথায় সেফটি হেলমেট, কোমরে সেফটি বেল্ট, পায়ে সুরক্ষা বুট কিংবা হাতে গ্লাভস ছিল না। একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য নির্মাণাধীন বহুতল ভবনেও। শ্রমিকদের অভিযোগ, প্রয়োজনের তুলনায় নিরাপত্তা সরঞ্জাম অত্যন্ত অপ্রতুল। ফলে বাধ্য হয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে তাদের। নিয়মিত ছোট-বড় দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটছে বলে জানান তারা। এর আগে বিগত সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান মেগা প্রকল্পে কাজ করতে গিয়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। এদিকে, জাতীয় বিল্ডিং কোড (২০১৪) অনুযায়ী, নির্মাণকাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের জন্য ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক।
নির্মাণস্থলে শ্রমিকদের মাথায় সেফটি হেলমেট, কোমরে সেফটি বেল্ট, পায়ে সুরক্ষা বুট, হাতে গ্লাভসসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সামগ্রী ব্যবহার নিশ্চিত করার নির্দেশনা রয়েছে। তবে বাস্তবে এসব নির্দেশনা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। নির্মাণাধীন ভবনে কর্মরত শ্রমিক সবুজ বলেন, আমরা এই ভবনে প্রায় একশ শ্রমিক কাজ করি। অথচ আমাদের জন্য বুট আছে মাত্র কয়েক জোড়া। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিষয়টি জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তাই বাধ্য হয়েই নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়া কাজ করছি। তবে শ্রমিকদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘হোসাইন কনস্ট্রাকশন’ এর ম্যানেজার লিখন।
তিনি বলেন, “নিরাপত্তার জন্য যা যা প্রয়োজন, সবই শ্রমিকদের দেওয়া হয়। কিন্তু স্থানীয় অনেক শ্রমিক সেগুলো ব্যবহার করতে অনীহা প্রকাশ করেন। আমরা নিয়মিত তাদের নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহারের জন্য উৎসাহিত করি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী এ কে এম শরীফ উদ্দীন বলেন, নির্মাণকাজে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি এ বিষয়ে আবারও লিখিতভাবে চিঠি পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে চুক্তি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









