কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুমারখালীতে চার প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় থানায় মামলা

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের খয়েরচারা মাতৃ সার্বজনীন মন্দিরের চার প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় থানায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। গতকাল শনিবার ( ১০ অক্টোবর) রাতে মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক কৌশিক বিশ্বাস বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি উল্লেখ করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আইনে মামলাটি করেন।

 

এরআগে, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে মন্দিরের গণেশ ঠাকুর, লক্ষী ঠাকুর, প্রতিমার আসনের সিংহ ও অসুর প্রতিমায় ভাঙচুর চালায় দুর্বৃত্তরা।

 

গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) জামাল উদ্দিন।

 

পুলিশ ও মন্দির কমিটি সুত্রে জানা গেছে, শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে যখন দেশজুড়ে চলছে জোর প্রস্তুতি, ঠিক তখনই বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কুমারখালীর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী খয়েরচারা মাতৃ সার্বজনীন পূজা মন্দিরের চারটি প্রতিমায় ভাঙচুর চালায় দুর্বৃত্তরা। গতকাল শুক্রবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, পূজা উদযাপন পরিষদের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় উৎসুক জনতা ঘটনাস্থলে ভিড় জমান। হিন্দু সম্প্রদায়সহ সাধারণ মানুষের মাঝে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়লে শুক্রবার বিকেলে কুষ্টিয়ার পুলিশ মো. আমিনুল ইসলাম ও জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং প্রতিটি মন্দিরে সিসিটিভি স্থাপনসহ নিরাপত্তা জোরদার করেন।

 

ঘটনার প্রায় দুইদিন অতিবাহিত হলেও ভাঙা প্রতিমা গুলো ফের গড়া হয়নি। তবে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই প্রতিমা গড়ার কাজ শেষ করা হবে বলে জানিয়েছেন খয়েরচারা মাতৃ সার্বজনীন মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক কৌশিক বিশ্বাস। তিনি বলেন, রাতের আধারে দুর্বৃত্তরা চারটি প্রতিমার অংশবিশেষ ভাঙচুর করেছে। পরিবেশ অশান্ত করতে এবং আমাদের মাঝে ভয়ভীতি সৃষ্টি করতে কে বা কাহারা করেছে তা জানিনা। তবে দোষীদের খুঁজে বের করতে এবং শাস্তির দাবিতে শনিবার রাতে থানায় মামলা করেছি।

 

তাঁর ভাষ্য, নতুন করে প্রতিমা গড়ালেও সকলের মন ভেঙে গেছে। আগের মতো আর উৎসব মনে হচ্ছেনা।

 

ঘটনার নিন্দা জানিয়ে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শংকর মজুমদার বলেন, উৎসবের আনন্দ ও সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে সমাজের একশ্রেণির অপশক্তি বা অসুর এই চক্রান্ত চালিয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

 

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আইনে থানায় মামলা করেছেন মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক। অভিযুক্তদের শনাক্ত করতে কাজ করছে পুলিশ। পাশাপাশি উৎসব নির্বিঘ্ন করতে পুলিশের টহলসহ নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ভারপ্রাপ্ত) নাভিদ সারওয়ার বলেন, প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশকে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রতিটি মন্দিরে সিসিটিভি স্থাপন, স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

Tags :

কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স, কুষ্টিয়া জিলাইভ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর