ইবি প্রতিনিধি ॥ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হল সংলগ্ন পুকুরটি ব্যবহার না করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সহ সকলকে অনুরোধ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গতকাল বিকালে হলের পুকুর থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় এক শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করার পর এই ঘোষণা দেয় প্রশাসন। তবে, আগে থেকেই এই পুকুর ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। গতকাল বুধবার (২৯ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক স্বাক্ষরিত এক সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে এই অনুরোধ জানানো হয়।
এতে বলা হয়, সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, শাহ্ আজিজুর রহমান হল সংলগ্ন পুকুরটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ সকলকে ব্যবহার না করার অনুরোধ করা হলো। সকলকে বিষয়টি যথাযথ অনুসরণ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। এর আগে, বুধবার (২৯ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হলের পুকুর থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় আইন বিভাগের ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইয়াসির আরাফাত কে উদ্ধার করে শিক্ষার্থীরা।
ফুটবল খেলা শেষে বন্ধুদের সাথে পানিতে সাঁতার কাটতে নেমে হঠাৎই নিজের প্রতি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পানিতে ডুবে যায় সে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ইবি মেডিকেলে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ক্রিকেট মাঠে কয়েকজন বৃষ্টিতে ফুটবল খেলছিলেন। খেলা শেষে ইয়াসির পুকুরে ছিলো। পরে ৩ বন্ধু এক সাথে এক পাড় হতে অন্য পাড়ে যাওয়ার জন্য সাঁতার শুরু করে।
ইয়াসিরের সাথের দুই বন্ধু অপর প্রান্তে চলে গেলেও ও শেষ প্রান্তে এসে আস্তে আস্তে ডুবে যেতে থাকে। এমতাবস্থায় তার বন্ধুরা চিৎকার করলে বিষয়টি অন্যান্য শিক্ষার্থীদের নজরে আসে। পরে পানিতে নেমে খোঁজাখুঁজি করে ইয়াসির ক্র উদ্ধার করা হয়। ততক্ষণে সে পুরোপুরি পুকুরে ডুবে গিয়েছিলো। প্রসঙ্গত, গত বছরের ১৭ জুলাই বিকেলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হলের এই পুকুর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তারপর থেকেই শিক্ষার্থীদের এই পুকুরে নামার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন।









