বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের নলকোলায় কৃষক দলের কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে তাদের ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পরদিন গতকাল বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে নলকোলা এলাকা পরিদর্শন ও সন্ধ্যার পরে আহতদের দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান কুষ্টিয়া জেলা কৃষক দলের নেতৃবৃন্দ। এসময় কুষ্টিয়া জেলা কৃষকদলের আহবায়ক আরিফুর রহমান সুমন, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম, যুগ্ম আহবায়ক শফি উদ্দিন, সদর উপজেলা কৃষকদলের সদস্য সচিব আশরাফুল ইসলাম, পাটিকাবাড়ি ইউনিয়ন কৃষকদলের সভাপতি আব্দুর রহমানসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
তারা আহতদের শয্যাপাশে অবস্থান করে চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। জেলা কৃষকদলের আহবায়ক আরিফুর রহমান সুমন বলেন, পাটিকাবাড়ির নলকোলায় আমাদের দলীয় কার্যালয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের দোসররা মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে হামলা চালিয়ে নেতাকর্মীদের আহত করেছে। পরদিন সকালে এলাকায় খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পেরেছি, আওয়ামী যুবলীগ, ছাত্রলীগের একদল ক্যাডার বাহিনী নাশকতা মামলায় জামিন পেয়ে নিজেদের প্রভাবিত করতে, এলাকার মানুষকে ভীতি প্রদর্শনে এই হামলা করেছে।
এব্যাপারে আমরা জেলা কৃষকদলের পক্ষ থেকে প্রশাসনের সাথে কথা বলেছি, তারা দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগের দোসরারা শুধু কৃষকদলের অফিসে হামলা করে খান্ত হয়নি, তারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, দেশমাতা মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবিসহ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকারের ছবি ছিড়েছে। এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে জনগন আর চাই না, সে লক্ষ্যে আওয়ামী লীগের দোসররা এলাকায় উত্তেজনা তৈরি করতে এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছে।
আমরা চাই এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক। জেলা কৃষকদলের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক কার্যালয়ে হামলা ও নেতাকর্মীদের ওপর আক্রমণের ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি আরো বলেন, এ ধরনের ঘটনায় এলাকায় অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়। আওয়ামী লীগ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত করায় তাদের কর্মী সমর্থকেরা ঘাপটি মেরে আছে।
কৃষকদলের এই কার্যালয়ে হামলার ঘটনা থেকে আমাদের জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে। কারন আওয়ামী লীগের দোসররা যে ভাবে হামলা করেছে, এতে করে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের উন্নত চিকিৎসার ব্যাপারে আমরা চিকিৎসকের সাথে কথা বলেছি। এছাড়া এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তারা যেনো পার না পায় সে ব্যাপারে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। এছাড়া সদর উপজেলা কৃষকদলের সদস্য সচিব আশরাফুল ইসলাম বলেন, পাটিকাবাড়ির নলকোলায় কৃষকদলের অফিসে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, কৃষকলীগ, ছাত্রলীগসহ তাদের কর্মী সমর্থকেরা সংঘবদ্ধ হয়ে এ হামলা করে। এতে বেশকয়েকজনকে জখম করে। এবিষয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
পাটিকাবাড়ি ইউনিয়ন কৃষকদলের সভাপতি আব্দুর রহমান জানান, আমরা রাজনৈতিক আলোচনা করছিলাম। এমন সময় মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে নলকোলা জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কার্যালয়ে সভা চলাকালে পাটিকাবাড়ি ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি নলকোলা গ্রামের মৃত সেলিম আহাম্মেদের ছেলে রুহুল আমিন এর নেতৃত্বে, তারই সমর্থক সামছুল আলমের ছেলে মাহফুজ আনাম রাসেল, আব্দুল আলিমের ছেরে তৌহিদ আলী, মৃত দবির উদ্দিন মন্ডলের ছেলে সাবান আলীসহ অনেকে আকস্মিকভাবে কার্যালয়ে প্রবেশ করে হামলা করে। এ ঘটনায় আমাদের ১২জন আহত হয়েছে। তিনি বলেন, গত ২০২৪ সালে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়েছে। এই ৫আগস্টের পরেও যে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এ ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে, এটা আমি মনে করি বিএনপির দুর্বলতা। যার কারনেই আজ তারা এ ধরনের ক্ষমতা পাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তবে এ ঘটনায় ইতিমধ্যে থানায় এজাহার জমা দেওয়া হয়েছে। এদিকে শয্যা সায়িত আহতরা জানান, জয় বাংলা শ্লোগান দিয়ে কৃষকদলের অফিসে আওয়ামী লীগের দোসররা হামলা চালিয়েছে। তাদের উপর হামলার ঘটনায় দোষীদের শাস্তির দাবি জানান। এজাহারের ব্যাপারে ইবি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম মামুনুর রশিদ এর সাথে মুঠফোনে কথা হলে তিনি জানান, উক্ত ঘটনার বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। মামলাও হয়েছে, ইতিমধ্যে তিনজন গ্রেফতার হয়েছে এবং এলাকায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। রিপোর্ট লেখা অবস্থায় মামলা নং ও আসামীদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।









