মিরপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় নামমাত্র আনুষ্ঠানিকতা ও চরম দায়সারা গোছের মাধ্যমে উন্মুক্ত জলাশয়ে, বর্ষা প্লাবিত ধানক্ষেত, প্লাবনভূমি ও প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্তকরণের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কেবল লোক দেখানো আয়োজনের মধ্য দিয়ে উপজেলা মৎস্য অফিসার আবুল কালাম আজাদ এই কর্মসূচি সম্পন্ন করেছেন বলে স্থানীয় সচেতন মহল ও প্রকৃত মৎস্যজীবীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
জানা গেছে, মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধি এবং আমিষের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে সরকারিভাবে বিভিন্ন জলাশয়ে নিয়মিত পোনা মাছ অবমুক্ত করার কথা থাকলেও মিরপুরে তা নামকে ওয়াস্তে করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পোনা অবমুক্তকরণের যে নিয়ম ও নীতিমালা রয়েছে, তার তোয়াক্কা না করে অত্যন্ত অস্বচ্ছ ও অপরিকল্পিত উপায়ে দায়সারাভাবে এই কার্যক্রম শেষ করা হয়। সঠিক আকারের পোনা নির্বাচন, পর্যাপ্ত পরিমাণ এবং সঠিক স্থানে মাছ ছাড়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের চরম অবহেলা লক্ষ্য করা গেছে। সচেতন মহলের মতে, নামমাত্র এই পোনা অবমুক্তকরণের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মৎস্যজীবী ও এলাকাবাসী।
শুধু ছবি তোলা এবং কাগজে-কলমে প্রতিবেদন তৈরির জন্যই এ ধরনের লোক দেখানো কর্মসূচি পালন করা হয়, যার বাস্তব কোনো ইতিবাচক প্রভাব স্থানীয় জলজ বা মৎস্য উৎপাদনে পড়ে না। এ বিষয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী ও মৎস্যজীবীরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর দৃষ্টি আকর্ষণ করে অবিলম্বে এই অনিয়মের তদন্ত দাবি করেছেন, যাতে সরকারি বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হয় এবং প্রকৃত সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছায়। এছাড়াও যারা দীর্ঘদিন ধরে মাছ চাষ করে সফলতা দেখিয়েছে তাদের বাদ দিয়ে যারা মৎস্য চাষের সাথে জড়িত নয় এমন ব্যক্তিদের বছর সেরা পুরষ্কারে ভূষিত করার অভিযোগও উঠেছে। এব্যাপারে উপজেলা মৎস্য অফিসারের মুঠোফোনে বক্তব্য নেয়ার চেষ্টা করলে বার বার নাম্বারটি ব্যস্ত পাওয়া যায়।









