কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ স্বামী মারা গেছেন বছর দুয়েক আগে। সন্তানাদিও নেই। ঘূর্ণিঝড় আম্পানে জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরের চাল ভেঙে গেছে। সিমেন্টের খুঁটির পলেস্তারা খসে খসে পড়ছে। ঘরের চালের ছিদ্র দিয়ে বৃষ্টির পানি চুইয়ে পড়ে বিছানায়।
বাস করা যায় না। দ্’ুচোখে ছলছল জল নিয়ে কথাগুলো বলেন মোছা. সবুজা খাতুন। কুমারখালীর চাঁপড়া ইউনিয়নের জয়নাবাদ কলোনিপাড়ার মৃত লিটনের স্ত্রী তিনি। সবুজা খাতুনের (৪২) ভাষ্য, স্বামীর ভিটায় ৪ শতাংশ জমি আছে। কেউ একটি থাকার মতো ঘর নির্মাণ, আরেকটি ভাতা কার্ড করে দিলে সেখানে বাকি জীবনটা কাটিয়ে দিতে পারতেন তিনি।
সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিকেলে কলোনিপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ৪ শতাংশ জমির ওপর জরাজীর্ণ টিনশেডের ঘর। ঘরের একপাশের চালা ও বেড়া ভাঙাচোরা। টিনের চালায় অসংখ্য ছিদ্র। খসে পড়ছে সিমেন্টের খুঁটির পলেস্তারা।
একমাত্র নলকূপটিও নষ্ট। এ সময় সবুজা খাতুন বলেন, ‘স্বামী-সন্তান নেই। কাজও করতে পারি না। একটি সরকারি চালের কার্ড আছে। তা থেকে প্রতিমাসে ৩০ কেজি চাল পাই। তার মধ্যে প্রায় ১৫ কেজি রান্না করে খাই। আর বাকি চাল বিক্রি করে বাজার-সদাই করি। ওষুধ কিনি। ঘর আর মেরামত হয় না। জানা গেছে, সবুজা খাতুনের স্বামী মো. লিটন ফেরি করে শাড়ি-লুঙ্গি বিক্রি করতেন।
করোনার পর লিটনের ব্যবসায় কয়েক দফা লোকসান হয়। সে সময় ধার-দেনা করে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে গিয়ে হঠাৎ স্ট্রোক করে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। এর মাঝে ২০২০ সালে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে বসবাসের একমাত্র ঘরটি ভেঙে যায়। অর্থের অভাবে তা আর মেরামত করা হয়নি। ২০২২ সালে মারা যান লিটন। স্থানীয় বাসিন্দা কাজী তুহিন জানান, সবুজা খাতুনের চেয়ে অসহায় মানুষ এলাকায় আর নেই।
স্বামী-সন্তান কেউ নেই তাঁর। একটি জরাজীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবন যাপন করছেন তিনি। একটি ঘর ও ভাতা কার্ড করে দিলে বাকি জীবনটা কোনোমতে কাটিয়ে দিতে পারতেন সবুজা। সবুজার জন্য সরকারিভাবে কিছু করা যায় কিনা, তা জানতে কথা হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মিকাইল ইসলামের সঙ্গে। তবে তিনি জানালেন, ‘জমি আছে, ঘর নেই’ প্রকল্প বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। তবে দুস্থ ও অসহায় হিসেবে সবুজা খাতুনকে একটি ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। তাঁকে ভাতা সুবিধার আওতায় আনার বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।
