কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ সান বাঁধানো পুকুরপাড়ে লম্বা টিনশেডের একটি আধাপাকা কক্ষ। কক্ষের ভিতর থেকে ভেসে আসছে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠ। শোনা গেল, আমরা মাদককে কি দেখাবো লাল কার্ড। বাল্যবিবাহকে দেখা কি দেখা? লাল কার্ড। ধর্ষণকে কি দেখাবো? লাল কার্ড। স্মার্টফোনের আসক্তিকে কি দেখাবো? লাল কার্ড। কক্ষটির ভিতরে দেখা গেল কয়েকশ শিক্ষার্থী দাঁড়িয়ে আছে। তাঁদের হাতে লাল কার্ড। গতকাল বুধবার (১ এপ্রিল) বেলা ১২টার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর আলাউদ্দিন আহমেদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাকক্ষে এমন দৃশ্য দেখা যায়।
সেখানে নিরাপদ ইন্টারনেট : সচেতনতা ও দায়বদ্ধতা শীর্ষক মতবিনিময় সভা ও শপথ বাক্য পাঠের আয়োজন করে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠ লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘ। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের অন্তত পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীকে শপথ বাক্য পাঠ করান সংগঠনটির সভাপতি মো. কাওসার আলম। শপথ হলো -আমি শপথ করিতেছি যে, নিয়মিত পড়াশোনা করে। নিজেকে যোগ্য ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলব। কখনও ধুমাপান – মাদকসেবন করবো না। ছেলেরা ২১ বছর ও মেয়েরা ১৮ বছর বয়সের পূর্বে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবোনা। ইন্টারনেটের অপব্যবহার করবো না।
স্মার্টফোনে আসক্তি হবোনা। আমি আমার দেশকে ভালোবাসব। দেশের কল্যাণে সর্বদা নিজেকে নিয়োজিত রাখিব। আমি আমার বাবা – মা ও শিক্ষকদের কথা মেনে চলব। আমি এই শপথ কখনও ভঙ্গ করিবো না। আমিন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার। আলাউদ্দিন আহমেদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমুল হক, উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সামছুল হুদা, কুমারখালী দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাবীব চৌহান প্রমূখ। এ বিষয়ে বিদ্যালয়টির দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ( রোল -১৩) জুলকার নাঈম বলেন, চমৎকার ও সময়োপযোগী আয়োজন ছিল। অনুষ্ঠানে শপথ পড়ে মাদক, বাল্যবিবাহ, ধর্ষণ ও স্মার্টফোনে আসক্তিকে লাল কার্ড দেখানো হয়েছে।
একই শ্রেণির মানবিক বিভাগের রাফিজা তাসনিন বলেন, আমরা স্মার্টফোন হাতে পেলেই ফেসবুক, ইউটিউবে টিকটকের ভিডিও দেখি। অপ্রয়োজনীয় স্কল করি। এতে মেধা, সময় ও শ্রম নষ্ট হচ্ছে। তবে আজকে ইন্টারনেট ও ফোনের অপব্যবহার না করার শপথ নিয়েছি। তা পালন করার চেষ্টা করব। সংগঠনটির সভাপতি মো. কাওসার আলম বলেন, ২০১১ সালে আমি ও আমার বোন ফারজানার টিফিনের টাকা দিয়ে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে এমন কার্যক্রম শুরু করি। বর্তমানে সারাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২ হাজার শিক্ষার্থী এ কাজে জড়িত।
তাদের টিফিনের টাকায় এখন সারাদেশের বিভিন্ন স্কুলে এমন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আজ এক হাজার ৯০৮ তম বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠান শেষ হয়েছে। সচেতনামূলক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ, অসহায় শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদানসহ নানান সামাজিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সংগঠনটির এমন আয়োজন ও উদ্যোগের প্রশংসা করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার বলেন, অত্যন্ত সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে মাদক, বাল্যবিবাহ, ধর্ষণ ও স্মার্টফোনের বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অন্যান্য সংগঠন গুলোকেও সামাজিক কর্মকাণ্ডে এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।
