খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ই জুলাই ২০২৬, ৩:৪ এএম

খোকসা প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার খোকসায় তিন প্রবাসী সহোদরের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাত দল অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের ঘরে জিম্মি করে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকাসহ মালামাল লুট করেছে। রবিবার দিবাগত রাতে উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নের কালিশংকর পুর উত্তরপাড়া মৃত রহমান খানের বাড়িতে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী প্রবাসীদের স্ত্রীরা জানান, রাত তিনটার দিকে ৫-৬ জনের একটি ডাকাত দল প্রবাসী স্বপন খানের আধাপাকা ঘরের দরজা ভেঙে প্রবেশ করে তার স্ত্রী তহুরা খাতুনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে।
তাদের চিৎকার শুনে প্রবাসী লিটন খান, রিপন খান ও শিপন খানের স্ত্রী ঘরের দরজা খুলে বাইরে আসে। এ সময় ডাকাতরা তাদের ও তাদের সন্তানদের একই ঘরে জিম্মি করে। বাড়ির বউদের চোখ-হাত বেঁধে ঘরের মেঝেতে ফেলে রাখা হয়। এরপর ডাকাতরা প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে বাড়ির প্রতিটি রুমে তল্লাশি চালিয়ে স্বর্ণালংকার, তিনটি মোবাইল ফোন এবং নগদ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। ভোর হওয়ার আগেই তাদের জিম্মি করে রাখা ঘরটির দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে ডাকাতরা নির্বিঘ্নে চলে যায়। জিম্মি শিশুরা বড়োদের হাত, চোখ ও মুখের বাঁধন খুলে তাদের মুক্ত করে।
প্রবাসীদের স্ত্রীরা মুক্তি পেয়ে প্রতিবেশীদের কাছে ডাকাতির ঘটনার বিষয়টি জানায়। পরে তাদের (প্রতিবেশীদের) মুঠোফোন থেকে ৯৯৯ নম্বরে কল করে। সকাল সাড়ে ৬টার দিক থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ভুক্তভোগী তহুরা খাতুন জানান, প্রতিনিদের মতো রবিবার রাতেও বাড়ির দরজায় তালা দিয়ে তারা চার-জা নিজ নিজ ঘরে সন্তানদের সাথে ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত তিনটার পরে তার ঘরের দরজা ভেঙে ৫-৬ জন ডাকাত প্রবেশ করে। তার মুখে টর্চ লাইট ধরে। তার ঘুম ভেঙে যায়। তার চিৎকারে অন্য ঘর থেকে জা’রা (স্বামীর ভাইদের স্ত্রী) উঠে আসে। এ সময় ডাকাতরা তাদেরও একই ঘরে নিয়ে জিম্মি করে। ডাকাতদের হতে পাটকাটা বড় কাঁচি, ছুরি (চাকু) ও দুইজনের হাতে রাইফেল জাতীয় অস্ত্র ছিল। তিনি আরও জানান, ডাকাতরা প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে তাদের তিনটি রুমে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১৫ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার, তিনটি মোবাইল ফোন ও নগদ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে গেছে।
প্রবাসী রিপন খানের স্ত্রী রেশমা খাতুন বলেন, গভীর রাতে দেবরের স্ত্রী ও মেয়ের চিৎকারে তিনি প্রথম ঘরের বাইরে বের হন। দরজা খোলার সাথে সাথে ডাকাত দলের এক সদস্য তাকে জানায়, ‘ভয়ের কিছু নেই, তারা ডাকাতি করতে এসেছে’ এই বলে তাকেও একই ঘরে নিয়ে গিয়ে হাত-চোখ-মুখ বেঁধে ফেলে। এরপর পর্যায়ক্রমে আরও এক দেবরের স্ত্রী উঠে এলে তাকেও জিম্মি করা হয়। এভাবেই বাড়ির সবাইকে জিম্মি করে ডাকাতরা প্রায় দেড় ঘণ্টা প্রতিটি ঘর, আলমারি, ওয়ারড্রপ তছনছ করে। এ বিষয়ে খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেন জানান, এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য