খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ই জুলাই ২০২৬, ১:৪১ এএম

খোকসা প্রতিনিধি ॥ আষাঢ় মাসের শেষ দিকেও দেখা নেই কাক্সিক্ষত বৃষ্টির। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে ৪ মাস ধরে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় চরম সংকটে পড়েছেন কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার পাটচাষিরা। পানির অভাবে কেটে রাখা পাট সময়মতো জাগ দিতে না পারায় তারা বিপাকে পড়েছেন। তারা জানান, চৈত্র-বৈশাখ মাসের খরা কাটিয়ে অনেক কষ্টে তারা পাটের আবাদ করেছেন। এখন পাট কাটার ভরা মৌসুমেও খাল, বিল, নদী-নালা সব শুকিয়ে আছে। কোথাও পাট জাগ দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত পানি নেই। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস জানায়, এ বছর ৪ হাজার ৩৩৫ হেক্টর জমিতে পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।
আবাদ হয়েছে ৪ হাজার ৯৬৮ হেক্টর জমিতে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬৩৩ হেক্টর বেশি। ফলনও হয়েছে ভালো। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে পাট কাটার মৌসুম চলছে। কৃষকরা পাট কেটে মাঠে স্তূপ করে রেখেছেন। রোদ আর গরমে পাটগাছ শুকিয়ে লালচে হয়ে যাচ্ছে, যা আঁশের গুণগত মান কমিয়ে দেবে। ফলে বাজারে পাটের ন্যায্য মূল্য না পাওয়া নিয়ে শঙ্কিত তারা। স্থানীয় কৃষক সুনীল মন্ডল বলেন, ‘পরের জমি বর্গা নিয়ে পাটের আবাদ করেছি। পাট দেখতে সুন্দর হয়েছে।’ আব্দুস সাত্তার নামে ওই এলাকার আরেক কৃষক বলেন, ‘পাট জাগ (পানির নিচে ডুবিয়ে রাখা) দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পানি নেই
। খরচের তুলনায় পাটের দাম ও ফলন নিয়ে শঙ্কিত আছি।’ একই দাবি করেন ওই এলাকার কৃষক আনন্দ কুমার। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, এই মুহূর্তে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হতে পারে ‘রিবন রেটিং’ বা ছালকরণ পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে কাঁচা পাট গাছ থেকে ছাল ছাড়িয়ে ছোট চৌবাচ্চা বা পলিথিন বিছানো গর্তে অল্প পানিতেই পচানো সম্ভব। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. বদরুদ্দোজা জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এবার বৃষ্টিপাতের ধরন বদলে গেছে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে চাষিদের প্রথাগত পদ্ধতির বাইরে এসে বিকল্প উপায়ে পাট পচানোর পরামর্শ দিচ্ছেন তারা। খোকসার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা খোকন হোসেন জানান, অন্য বছরের তুলনায় এবার পাটের আবাদ ও ফলন ভালো হয়েছে।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য