বিশেষ প্রতিনিধি ॥ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ৭৭ কুষ্টিয়া-৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীগনকে নিয়ে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। একটি রাষ্ট্রে নাগরিকের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদ নেই” শ্লোগানে জনগণের মুখোমুখি, গতকাল সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুর ৩টার দিকে কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমির অডিটোরিয়ামে সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক কুষ্টিয়া জেলা কমিটি এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। অনুষ্ঠানে কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে কুষ্টিয়া জেলা শাখার সেক্রেটারী সুজাউদ্দিন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) এর মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মীর নাজমুল ইসলাম শাহীন, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি (বিআরপি) মনোনীত প্রার্থী রুমপা খাতুন,
বাংলাদেশ গনঅধিকার পরিষদ (জিওপি) এর প্রার্থী শরিফুল ইসলাম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতাপাখা প্রতীকের প্রার্থী আলহাজ্ব আব্দুল্লাহ আখন্দ। সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, নাগরিকরা অংশগ্রহণ করেন। এসময় এমপি প্রার্থীরা তাঁদের নির্বাচনী ভাবনা তুলে ধরেন এবং সুশাসন, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতার অঙ্গীকার করেন। একই সঙ্গে তাঁরা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহযোগিতার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এসময় বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তার সহধর্মিণী মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ ধারন করে রাজনীতিতে আমার পথ চলা।
আগামী দিনে দুর্নীতি, দুঃশাসন ও স্বেচ্ছাচারের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করব ইনশাআল্লাহ। একটি সুন্দর সমাজ গড়তে ধানের শীষের বিকল্প নেই। সকলকে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহবান জানান তিনি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব আব্দুল্লাহ আখন্দ বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হতে হবে আল্লাহভীতি, ন্যায়বিচার, সততা ও জনকল্যাণ। আমাদের প্রিয় দেশ দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, দুঃশাসন ও বৈষম্যের শিকার। এই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে হলে প্রয়োজন সৎ, যোগ্য ও আমানতদার নেতৃত্ব। আমরা জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারবদ্ধ। আগামী ১২ তারিখ নির্বাচনে ইসলাম দেশ মানবতার কল্যানে জনগণের ভাগ্যের উন্নয়নে, ন্যায়ের প্রতীক হাতপাখা প্রতীকে সমর্থন দিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর হাতকে শক্তিশালী করুন।
এর জন্য সকলকে হাতপাখা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহবান জানান তিনি। বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মীর নাজমুল ইসলাম শাহিন বলেন, আমি মই প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে আপনাদের সামনে দাঁড়িয়েছি শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে। আজ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ বেকারত্ব, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, দুর্নীতি ও লুটপাটের শিকার। রাষ্ট্রযন্ত্র চলে মুষ্টিমেয় ধনী ও ক্ষমতাবানদের স্বার্থে। এই অবস্থা পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি এবং জনগণের ঐক্যবদ্ধ লড়াই। এর জন্য বাসদের বিকল্প নেই।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকলকে মই প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহবান জানান তিনি। গনঅধিকার পরিষদের প্রার্থী শরিফুল ইসলাম প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, কুষ্টিয়াকে বিভাগে উন্নিত করতে চাই। একটা ডোমেস্টিক এয়ারপোর্ট করার পরিকল্পনা রয়েছে। গড়াই নদীর উপর বড়বাজার ঘোড়াঘাট থেকে শিলাইদহ মুখী ব্রিজ করতে চাই। এছাড়া চিকিৎসা ও শিক্ষার মান উন্নয়ন, কুষ্টিয়াকে শিল্পায়ন করতে চাই, যাতে করে বেকারত্ব দুর হবে। এছাড়া বক্তারা বলেন, জনপ্রতিনিধিরা জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন, এটাই সংবিধানের মূল চেতনা। কিন্তু বাস্তবতায় অনেক সময় নাগরিকদের অধিকার ও মতামত উপেক্ষিত হয়। এই অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসতে হলে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
