কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ ছয় বছরে দ্বিগুণ হওয়ার লোভে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর শিলাইদহ ইউনিয়নের কল্যাণ মৃৎশিল্প সমবায় সমিতিতে প্রায় ৫০ কোটি টাকা আমানত রেখেছিলেন শত শত গ্রাহক। গ্রাহকদের সেই বিশ্বাস ভেঙে আমানতের সব টাকা নিয়ে প্রায় ১৫ দিন আগে লাপাত্তা হয়ে যান সমিতির প্রতিষ্ঠাতা বটোকৃষ্ণ পাল (৬৪) ও তার ছেলে এবং বর্তমান এমডি সুবেল পাল (৩৬)।
তবে নাটকীয়ভাবে গত বুধবার রাতে নিরাপত্তা চেয়ে কুমারখালী থানায় হাজির হন প্রতিষ্ঠাতা বটোকৃষ্ণ পাল। আর এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই টাকা ফেরতের আশায় থানায় ভিড় করেন শত শত গ্রাহক। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত থানা চত্বরে শত শত গ্রাহকের ভিড় দেখা যায়। পরে পুলিশ বটোকৃষ্ণকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করে।
ভুক্তভোগী গ্রাহকরা জানান, উচ্চ মুনাফার লোভ দেখিয়ে বছরের পর বছর টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সমিতিটি।
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দীর ফরিদপুর গ্রামের সুরেশ কুমার পাল বলেন, “৬ বছরে দ্বিগুণ হওয়ার লোভে ২০২১ সালে ২ লাখ টাকা জমা দিয়েছিলাম। হঠাৎ পূজার মধ্যে বাপ-ছেলে টাকা নিয়ে পালিয়েছে। থানায় আটকের খবর শুনে এসেছি।”
রাজবাড়ীর বানিবহ গ্রামের বীথিকা রাণী পাল বলেন, “৬ বছরে দ্বিগুণের আশায় ১৩ লাখ টাকা দিয়েছি। সামনের বছর ২৬ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার কথা। সমিতির বইয়ে সব লেখা আছে। কিন্তু তার আগেই মালিকরা পালিয়েছে।”
কুমারখালীর কল্যাণপুরের সিতা রাণী দাস বলেন, “শত শত মানুষের প্রায় ৫০ কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছে বটোকৃষ্ণ ও তার ছেলে সুবেল। ফেসবুকে দেখলাম বটোকৃষ্ণকে থানায় আনা হয়েছে। তাই টাকার আশায় এসেছি। প্রয়োজনে মামলা করা হবে।”
পুলিশ হেফাজতে থাকা অভিযুক্ত বটোকৃষ্ণ পাল বলেন, “গ্রাহকরা প্রায় ৮ কোটি টাকা পাবে। ২০০১ সাল থেকে সুনামের সাথে প্রতিষ্ঠান চলছিল। সম্প্রতি আমার ছেলে সুবেল ও কিছু কর্মচারী টাকা দুই নাম্বারি করেছে। তাই আজ এই দশা। তিন মাস সময় দিলে সকলের টাকা পরিশোধ করা হবে।”
এ বিষয়ে কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, “বটোকৃষ্ণ নিরাপত্তা চেয়ে বুধবার রাতে নিজেই থানায় এসেছিল। তার বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের মৌখিক অভিযোগে শত শত মানুষ থানায় এসেছে। কিন্তু কেউ লিখিত মামলা করেনি। তবে বিষয়টি আমলযোগ্য অপরাধ হওয়ায় ৫৪ ধারায় তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।









