কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পরও মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ পৌরবাসী

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের লক্ষ্যে কুষ্টিয়ায় দিনব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬ উপলক্ষে কুষ্টিয়া পৌরসভার উদ্যোগে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি। তবে প্রশাসনের এমন উদ্যোগের মধ্যেও পৌর এলাকায় ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে কার্যকর ও নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রমের ঘাটতি রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান কয়েকটি স্থানে সীমাবদ্ধ থাকলেও নিয়মিত মশক নিধন, ড্রেন পরিষ্কার এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। ফলে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে পৌরবাসীর মধ্যে।

 

গতকাল শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল থেকে কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন স্থানে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়। একই দিন কুষ্টিয়া পৌরসভার আয়োজনে তিন দিনব্যাপী বিশেষ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান। এ সময় পৌরসভার প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উপসচিব) মিজানুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

জেলা প্রশাসন, কুষ্টিয়া পৌরসভা, উপজেলা প্রশাসন, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে এ কর্মসূচি পালিত হয়। অভিযানের আওতায় পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থান, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র, বাজার, ড্রেন, রেলস্টেশন, বাসাবাড়ির আশপাশ ও ছাদে জমে থাকা পানি এবং ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পাশাপাশি এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংসে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না। বরং নিয়মিতভাবে বাড়িঘর, ছাদ, পরিত্যক্ত পাত্র, ড্রেন ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও যেন পানি জমে থাকতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। একই সঙ্গে মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে তা ধ্বংস করা এবং জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

 

তবে পৌরবাসীর অভিযোগ, এসব উদ্যোগের বাস্তব প্রতিফলন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁদের ভাষ্য, বিভিন্ন সময় পরিচ্ছন্নতা অভিযানের আয়োজন করা হলেও তা অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু স্থান পরিষ্কার এবং ছবি তোলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। অভিযান শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা ও তদারকি কতটা হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে মশক নিধনে নিয়মিত কার্যক্রম না থাকায় মশার উপদ্রব কমছে না বলে অভিযোগ তাঁদের।

 

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কুষ্টিয়া পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় মশার উপদ্রব বেড়েছে। বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে ডেঙ্গু মহামারী আকার ধারণ করেছে। এমন পরিস্থিতিতে মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা এবং নিয়মিত তদারকির পরিবর্তে বিচ্ছিন্ন পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে বলে মনে করছেন তাঁরা।

 

পৌরবাসীর আরও অভিযোগ, মশা নিধনে ব্যবহৃত ফগার মেশিনের কার্যক্রম নিয়মিত চোখে পড়ে না। অনেক এলাকায় ড্রেন ও নোংরা পরিবেশের যথাযথ পরিচর্যা না হওয়ায় মশার বংশবিস্তারের আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। তাঁদের মতে, শুধু বিশেষ দিবস বা নির্ধারিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে অভিযান পরিচালনা না করে সারা বছর পরিকল্পিতভাবে মশক নিধন কার্যক্রম চালানো প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রতিটি ওয়ার্ডে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা তদারকি এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

 

এ অবস্থায় কুষ্টিয়া পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও মশক নিধন কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পৌরবাসীর প্রত্যাশা, ঘোষিত কর্মসূচি কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না রেখে প্রতিটি ওয়ার্ডে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, ড্রেন পরিষ্কার, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং মশা নিধনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতার বিকল্প নেই। এ জন্য প্রত্যেককে নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সচেতন হতে হবে। জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

 

তবে পৌরবাসীর প্রশ্ন—উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পর নিয়মিত কার্যক্রম কতটা জোরদার হবে? ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে কুষ্টিয়া পৌরসভা প্রতিটি ওয়ার্ডে কার্যকর মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিশ্চিত করতে পারবে কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন তাঁরা।

Tags :

কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স, কুষ্টিয়া জিলাইভ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Are you human? Please solve:Captcha


সর্বশেষ খবর