বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ায় ফসলের উৎপাদন বাড়ানোর আশায় কৃষিজমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করছেন কৃষকেরা। কৃষি বিভাগ ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ছাড়াই এসব উপকরণ ব্যবহারের ফলে একদিকে যেমন মাটির উর্বরতা কমছে, অন্যদিকে ব্যাহত হচ্ছে ফসলের স্বাভাবিক উৎপাদন। একই সঙ্গে বাড়ছে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ঝুঁকি।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলে নতুন নতুন রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ দেখা দিচ্ছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় অনেক কৃষক কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ না নিয়ে সার ও কীটনাশকের দোকানিদের পরামর্শের ওপর নির্ভর করছেন। ফলে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি রাসায়নিক উপকরণ জমিতে প্রয়োগ করা হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে কৃষির জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে।
কৃষকরা জানান, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠে এসে খোঁজখবর নেন না। তাই সার ও কীটনাশক ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাঁরা মূলত দোকানিদের পরামর্শ অনুসরণ করেন। ফসলে রোগবালাই দেখা দিলে কিংবা পোকামাকড়ের আক্রমণ বাড়লে দোকানিদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সার প্রয়োগ করেন তাঁরা।
কৃষি বিশেষজ্ঞ আশরাফ সিদ্দিকীর মতে, অপরিকল্পিতভাবে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে জমির উর্বরতা হ্রাসের পাশাপাশি ফসলের উৎপাদন এবং পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
কৃষি ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ গৌতম কুমার রায়ের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের একটি গবেষণায় ২০০৪ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দুই দশকে দেশের ফসলি জমিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার ৭৫ শতাংশ বেড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর মতে, এসব উপকরণের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বন্ধ করা না গেলে দীর্ঘমেয়াদে দেশের কৃষি ব্যবস্থা ক্ষতির মুখে পড়বে।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুপালি খাতুন জানান, জমিতে অতিরিক্ত ও অপরিকল্পিতভাবে সার ও কীটনাশক ব্যবহারের ঝুঁকি মোকাবিলায় কৃষি বিভাগ কাজ করছে। কৃষকদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এ সংকট মোকাবিলায় রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের যথেচ্ছ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জমির ধরন ও ফসলের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক মাত্রায় উপকরণ ব্যবহারের পরামর্শ নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি কৃষকদের কাছে নির্ভরযোগ্য ও নিরপেক্ষ ডিজিটাল কৃষি পরামর্শ পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তাঁরা।









