কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

মিরপুরে বেপরোয়া মোটরসাইকেল চোরচক্র

মিরপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় মোটরসাইকেল চোরচক্রের তাণ্ডব দিন দিন চরম রূপ ধারণ করছে। দিনদুপুরে কিংবা রাতের আঁধারে—কোনো কিছুতেই আটকানো যাচ্ছে না চোরদের। সাধারণ মানুষের ব্যবহৃত বাইক থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দা কিংবা জনপ্রতিনিধি, সংঘবদ্ধ এই চোরচক্রের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না কেউই। উপজেলার এক ইউনিয়ন থেকে অন্য ইউনিয়ন—সর্বত্রই যেন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে চোরেরা। একের পর এক দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় পুরো উপজেলাজুড়ে এখন চরম আতঙ্ক ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

সর্বশেষ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নের বরকত মোড় সংলগ্ন এলাকায় চুরির ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দা আক্তার হোসেন (মেম্বার) তার ব্যবহৃত ‘বাজাজ ডিসকভার ১৩৫ সিসি’ মোটরসাইকেলটি রাস্তার পাশে নিজের ঘাসের জমির কাছে পার্ক করে রেখে ঘাস কাটতে নামেন। কিন্তু ঘাস কাটার কাজে মন দেওয়ার মাত্র কয়েক সেকেন্ডের অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে চোরচক্রটি বাইকটি নিয়ে চম্পট দেয়। মুহূর্তের মধ্যে চোখ বুজে চোখ খোলার আগেই বাইক উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় হতবাক হয়ে পড়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে ঠিক একই স্থান থেকে আরও কয়েকটি মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটেছে, যা ওই এলাকার মানুষের উদ্বেগ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এর আগে বারুইপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব চুনিয়াপাড়া গ্রামেও ঘটে আরেক দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা। মৃত আব্দুস সামাদের ছেলে কামরুজ্জামান রাসেল (৫১) তার নিজ বাড়ির সামনে রাখা ‘বাজাজ পালসার ১৫০ সিসি’ (রেজিস্ট্রেশন নম্বর: কুষ্টিয়া-ল-১২-২২২৭) মোটরসাইকেলটি রেখে ভেতরে যান। কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যেই সংঘবদ্ধ চক্রটি বাইকটি নিয়ে সটকে পড়ে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মিরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চোরদের সাহস কতটা বেড়েছে তা দিনের আলোয় জনবহুল এলাকা থেকে চুরির চিত্র দেখলেই বোঝা যায়। উপজেলার বহলবাড়ী, ছাতিয়ান, কুড়িপাড়া, তালবাড়ীয়া, পোড়াদহ, বারুইপাড়া, ফুলবাড়ীয়া, আমলা, সদরপুর, মালিহাদ, চিথলিয়া ও বারাদী—সবকটি ইউনিয়নই এখন চোরচক্রের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। তদন্ত ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, এটি কোনো সাধারণ বা বিচ্ছিন্ন চুরি নয়; এর পেছনে রয়েছে অত্যন্ত সুসংগঠিত একটি চক্র।

হাট-বাজার, ব্যাংকের সামনে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এমনকি জনাকীর্ণ স্থানগুলোকে নিশানা বানিয়ে কয়েক সেকেন্ডেই মাস্টার কি (নকল চাবি) ব্যবহার করে চম্পট দিচ্ছে তারা। প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকা এই অপরাধে দিশেহারা সাধারণ মানুষ। সচেতন মহলের মতে, অবিলম্বে চোরচক্রের সক্রিয় সদস্যদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার না করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। দ্রুত উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, পুলিশের নিয়মিত টহল বৃদ্ধি এবং সন্দেহভাজন আস্তানাগুলোতে অভিযানের জোরালো দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

Tags :

কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স, কুষ্টিয়া জিলাইভ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর