কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

২৪ ঘণ্টায় হাম ও ডেঙ্গুতে কুষ্টিয়ার হাসপাতালে ৫৯ রোগী 

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ায় হাম ও ডেঙ্গুর সংক্রমণ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ২৮ জন এবং ডেঙ্গু আক্রান্ত ৩১ জন বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ২৮৩। তাঁদের মধ্যে ১৭ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চারজনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

 

সংক্রমণ মোকাবিলায় হাসপাতালগুলোতে পৃথক হাম ও ডেঙ্গু আইসোলেশন ইউনিট খোলা হয়েছে। পাশাপাশি হামের টিকাদান কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

 

স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কুষ্টিয়ায় হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ২৮৩ জনে পৌঁছেছে। তাঁদের মধ্যে ১৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে এসব মৃত্যু হামের কারণে নিশ্চিতভাবে হয়েছে কি না, তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

 

ডেঙ্গু পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬৪৮ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ছাড়া চলতি বছরে জেলার অন্যান্য সরকারি হাসপাতালে আরও ৫০৭ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

 

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাত বছর বয়সী শিশু রাইছকের মা জানান, হঠাৎ তাঁর সন্তানের জ্বর ও পাতলা পায়খানা শুরু হয়। পরে শরীরে দানা দেখা দিলে শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে আগের তুলনায় সে কিছুটা সুস্থ।

 

একই হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়া এলাকার বাসিন্দা রাসেল। তিনি জানান, তিন দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাঁর পরিবারের আরও দুজন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।

 

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ইকবাল হাসান বলেন, হাসপাতালে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি। এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং ডেঙ্গু রোগীরাও চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, জেলায় হামের টিকাদান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এরপরও অনেকে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। চিকিৎসার মাধ্যমে তাঁদের অনেকেই সুস্থ হয়ে উঠছেন। অন্যদিকে, জেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপও রয়েছে।

 

স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টদের মতে, জ্বর, শরীরে ফুসকুড়ি, পাতলা পায়খানা কিংবা ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষার ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন।

Tags :

কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স, কুষ্টিয়া জিলাইভ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর