কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

এনসিপির আহ্বায়ক হলেন আ.লীগের কর্মী কামরুজ্জামান 

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদর উপজেলা কমিটি গঠন নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। নতুন কমিটির আহ্বায়ক মো. কামরুজ্জামান কামুকে ঘিরে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন দলেরই কয়েকজন নেতাকর্মী। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। গত ১১ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়া সদর উপজেলা এনসিপির ১২ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে মো. কামরুজ্জামান কামুকে আহ্বায়ক করা হয়। কমিটি ঘোষণার পর থেকেই তাকে আহ্বায়ক করা নিয়ে নানা আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কামরুজ্জামান কামুকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাকর্মীর সঙ্গে মিছিল-মিটিংয়ে দেখা গেছে। জেলা পর্যায়ের কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার বিভিন্ন ছবিও রয়েছে। এসব ছবিতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে তাকে কেক কাটতে ও খেতে দেখা যায়। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের কমিটিতে পদ পাওয়ার জন্য তিনি চেষ্টা করেছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কোনো কমিটিতে তার নাম ছিল না বলে দাবি করেছে এনসিপির কুষ্টিয়া জেলা কমিটি।

 

সদর উপজেলা কমিটি নিয়ে বিতর্ক

 

অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের ১৭ জুন কুষ্টিয়া মডেল থানায় কামরুজ্জামান কামুসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। ওই মামলায় তিনি দীর্ঘদিন কারাগারেও ছিলেন বলে জানা গেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জমি দখল, মারামারিসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কামরুজ্জামান কামু। এ বিষয়ে এনসিপির কুষ্টিয়া জেলার সদস্য সচিব সুলতান মারুফ তালহা বলেন, যারা কামরুজ্জামানকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে অভিযোগ করছেন, তারা আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি।

আমরা নিজেরাও যাচাই-বাছাই করেছি। আওয়ামী লীগের কোনো কমিটিতে তার নাম পাওয়া যায়নি। আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে কামরুজ্জামানের মিছিল-মিটিংয়ের ছবি এবং কেক কাটার ছবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি ছবি দেখে কাউকে আওয়ামী লীগের নেতা বা কর্মী বলা যায় না। আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে ছবি থাকা এবং আওয়ামী লীগের কমিটিতে থাকা এক বিষয় নয়। তিনি আরও বলেন, কামরুজ্জামানকে আহ্বায়ক করার কারণে কেন্দ্রের একজন নেতা আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছেন। তবে তিনি কুষ্টিয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত কেউ নন। টাকা নিয়ে তাকে পদ দেওয়া হয়েছে এমন কোনো প্রমাণও নেই।

আমাদের কাছে তাকে যোগ্য মনে হয়েছে বলেই আহ্বায়ক করা হয়েছে। এনসিপির কুষ্টিয়া জেলার আহ্বায়ক জান্নাতুল ফেরদাউস টনি বলেন, কামরুজ্জামান আওয়ামী লীগের কোনো কমিটিতে ছিলেন এমন সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ বা প্রমাণ আমরা পাইনি। দলীয়ভাবে যাচাই-বাছাই করেই তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন কি না এবং জুলাই আন্দোলনের বিপক্ষে ছিলেন কি না, সেসব বিষয়ও আমরা যাচাই করেছি। কিন্তু এর পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে তার ছবি থাকার বিষয়ে টনি বলেন, এ ধরনের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ আমাদের হাতে এলে অবশ্যই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজন হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। টাকার বিনিময়ে পদ দেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি। বলেন, এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। টাকা নিয়ে পদ দেওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এনসিপির সদর উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক কামরুজ্জামান কামু বলেন, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে, সবই মিথ্যা।

২০১৭ সালে আমি একবার নির্বাচন করেছিলাম। ওই নির্বাচনে হেরে যাই। সে সময় সদর উপজেলার চেয়ারম্যান ছিলেন আতা সাহেব। তিনি আমাকে সদর উদ্দিন খান ও আজগার আলীর কাছে পাঠাতেন। বিভিন্ন মিছিল-মিটিংয়েও আমাকে যেতে হতো। এদিকে, কমিটি নিয়ে অসন্তুষ্ট নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দাবি অনুযায়ী কমিটি স্থগিত বা পুনর্বিবেচনা করা না হলে তারা সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরবেন। এনসিপির সদর উপজেলা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে ওঠা অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যে শেষ পর্যন্ত দলীয় নেতৃত্ব কী সিদ্ধান্ত নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

 

Tags :

কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স, কুষ্টিয়া জিলাইভ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Are you human? Please solve:Captcha


সর্বশেষ খবর