বিশেষ প্রতিনিধি ॥ পরিবেশকে বাঁচাই। আগামী প্রজন্মকে বাঁচাই। পৃথিবীকে বাঁচাই এই স্লোগানকে সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সংরক্ষণে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু, মাটি, পানি, কৃষি ও পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে পলিন ফাউন্ডেশন। গতকাল রবিবার (৪ অক্টোবর) দুপুর ২ টার সময় কুষ্টিয়ায় চৌড়হাস মুকুল সংঘ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যানিকেতনে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন পলিন ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক আবু মুনি সাকলায়েন এলিন।
এ সময় তিনি বলেন, পলিন ফাউন্ডেশন মনে করে আগামী প্রজন্মকে টিকিয়ে রাখতে ছাদ ও বাড়ির আঙ্গিনায় সবজি বাগান, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু, মাটি, পানি, কৃষি ও পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা একে অপরের পরিপূরক। এই বিষয়গুলো সমষ্টিগতভাবেই শিক্ষার্থীদের হাতে খড়ি দেওয়া উচিত। এখন থেকেই তাদের সচেতন করা উচিত। সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় কৃষি, মাটি ও পানি কিভাবে দূষিত হচ্ছে ও জলবায়ুর উপর এর প্রভাব পড়ছে এ বিষয়ে তাদের জানা উচিত। এবং এগুলো কিভাবে কৃষি ও পুষ্টির উপরে প্রভাব পড়ছে প্রতিটি শিশুকে এখন থেকে শেখাতে হবে। তাদের হাত ধরেই একটি সুন্দর আগামী একটি সুন্দর পৃথিবী তৈরিতে সচেতনতা বাড়াতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের মাঝে সঠিক নিয়মে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলবায়ুর প্রভাব , মাটি ও পানি দূষণ মোকাবেলা ও করণীয় এবং কৃষি ও পুষ্টি সম্পর্কে তাদের ধারণা দেন।
সেই সাথে শিক্ষার্থীদের কি কি সবজি পছন্দ এবং তারা তাদের ছাদ বাগান অথবা বাড়ির সামনে আঙ্গিনায় পুষ্টি বাগান করতে ইচ্ছুক সেগুলোর বিবরণ নেওয়া হয়। দু-একদিনের মধ্যে এগুলো ( বীজ ও জৈব সার) তাদের মধ্যে বিতরণ করা হবে এবং ছাদ বাগান বা বাড়ির সামনে পুষ্টি বাগান করতে সকল ধরনের সহযোগিতা করা হবে বলে তিনি জানান। তিনি আরো বলেন, শিশু-কিশোরদের শুধু বইয়ের জ্ঞান নয়, বাস্তব জীবনে পরিবেশবান্ধব কৃষি ও পরিচ্ছন্নতার চর্চায় যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বাড়ির ছাদ, বারান্দা কিংবা আঙিনার ছোট জায়গাকে কাজে লাগিয়ে সবজি ও পুষ্টিকর ফসল উৎপাদনের ধারণা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হলে পারিবারিক পর্যায়ে নিরাপদ খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা বাড়তে পারে। পাশাপাশি উৎপাদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে শিশুদের সম্পৃক্ততা তাদের কৃষি ও প্রকৃতির প্রতি আগ্রহী করে তুলতে পারে।
অন্যদিকে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে সচেতনতা তৈরির মাধ্যমে বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা, পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য আলাদা করা এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলার অভ্যাস শিক্ষার্থীদের মধ্যে গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। পলিন ফাউন্ডেশন ইতোমধ্যে কুষ্টিয়া পৌরসভার নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। পলিন ফাউন্ডেশন শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ বিষয়ে কাজ করে যাবে ইনশাআল্লাহ।
এ সময় চৌড়হাস মুকুল সংঘ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ বলেন, তোমরা এর মাধ্যমে হাতে-কলমে কৃষি ও চাষাবাদ সম্পর্কে জানতে পারবে। তোমরা যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলবেনা এবং অন্যদেরকেও সচেতন করবে। তোমরাই আগামীর ভবিষ্যৎ তোমাদের হাত ধরেই গড়ে উঠুক সুন্দর একটি প্রজন্ম। সেই সাথে তিনি পলিন ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ জানান এরকম একটি মহৎ উদ্যোগ নেওয়ার জন্য। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পলিন ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবী টিম ও স্কুলের শিক্ষকেরা। উল্লেখ্য পলিন ফাউন্ডেশন কুষ্টিয়া পৌরসভার সাথে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করছে। এছাড়াও নারীদের স্বাবলম্বী করার জন্য সেলাই প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন কুটির শিল্প তৈরিতে সহযোগিতা করছে।









