ইবি প্রতিনিধি ॥ অষ্টাদশ বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আইন বিভাগের ১৩ শিক্ষার্থী সহকারী জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। গতকাল বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন (বিজেএসসি) সচিবালয়ের পরীক্ষানিয়ন্ত্রকের দপ্তর থেকে এ ফল প্রকাশ করা হয়। কমিশনের ওয়েবসাইটেও ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে সহকারী জজ পদে ২০০ জন প্রার্থীকে সাময়িকভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে সুপারিশপ্রাপ্তরা হলেন; ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের মেহবুবা মোহিনী, শাকির আলম, রফিকুজ্জামান, আনোয়ার হোসেন, শারমিন খাতুন ও ইয়াসমীন খাতুন; ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের সাদিয়া আফরিন খান; ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের হুমায়ন কবির ও সালমা খাতুন; ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের আসিফ হোসেন ও শফিক; ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের খালিদ লিখন এবং ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের আমজাদ হোসেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জুডিশিয়াল সার্ভিসের প্রবেশ পদ (সিভিল জজ) নিয়োগের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত অষ্টাদশ বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষা, ২০২৫-এ সাময়িকভাবে উত্তীর্ণ ও মনোনীত ২০০ জন প্রার্থীর রোল নম্বর বিধি অনুযায়ী কোটা সংরক্ষণপূর্বক মেধাক্রম থেকে নিচে ক্রমানুসারে প্রকাশ করা হয়েছে। এতে কোনো প্রার্থী অসত্য তথ্য প্রদান, তথ্য গোপন, যোগ্যতার কোনো ঘাটতি বা আবেদনপত্রে অসঙ্গতি দেখা গেলে ওই প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল বলে গণ্য হবে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য প্রার্থীদের উপস্থিতির স্থান, তারিখ ও সময় যথাসময়ে দৈনিক পত্রিকা, কমিশনের নোটিশ বোর্ড এবং ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে।
কোনো প্রার্থীকে অযোগ্য ঘোষণা করা হলে অথবা প্রাক-পরিচয় যাচাই (পুলিশ ভেরিফিকেশন) প্রতিবেদনে কোনো বিরূপ তথ্য পাওয়া গেলে তার মনোনয়নও বাতিল বলে গণ্য হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সাফল্যের বিষয়ে সুপারিশপ্রাপ্ত আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ বর্ষের শিক্ষার্থী শাকির আলম বলেন, “প্রথমেই মহান আল্লাহ তা’আলার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা যে তিনি আমাকে এই জায়গায় নিয়ে এসেছেন। টানা ২ বার ব্যর্থ হওয়ার পরও হাল ছাড়েনি। তৃতীয়বারের চেষ্টায় উত্তীর্ণ হয়েছি। কুরআনের সেই আয়াত মনে পড়ে যায় যে, শিগগিরই তোমার রব তোমাকে এত বেশি দিবেন যে তুমি খুশি হয়ে যাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর থেকেই আমার ইচ্ছে ছিল যে একদিন বিচারক হয়ে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবো।”
“পরিবার ও সমাজের এ ব্যাপারে উৎসাহিত করতে অবদান আছে। পাশাপাশি উৎসাহিত হয়েছি বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভাই-আপুদের সুপারিশপ্রাপ্ত হতে দেখে। আমার সবচেয়ে বড় ভালো লাগা সাদ্দাম হোসেন হলের ৪২২ নম্বর রুম থেকে আমরা তিনজনই জজ হয়েছি”, যোগ করেন তিনি। আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক হালিমা খাতুন বলেন, “আমাদের বিভাগ প্রতিবছরই জুডিশিয়ারিতে ভালো করেছে। এই ধারা অব্যাহত থাকবে আশা করি। যারা জুডিশিয়ারিকে প্রফেশন হিসেবে নিতে চাই তাদের গাইডলাইন দেওয়া থেকে শুরু করে বেজলাইন দৃঢ় করতে আমরা কাজ করবো। জুডিশিয়ারি একটা মহৎ পেশা। আমাদের বিভাগে উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি। অণ্যদিকে তিন রুমমেট বন্ধু জজ হওয়ার সাফল্য অর্জণ করেছে। তারা ঈর্ষনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। তারা আমাদের শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।









