খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ই জুলাই ২০২৬, ১:৩৭ এএম

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে সরকারি জায়গা দখল করে একের পর এক অস্থায়ী দোকান গড়ে ওঠার অভিযোগ উঠেছে। দিন দিন এসব দোকানের সংখ্যা বাড়তে থাকায় রোগী, স্বজন ও পথচারীদের চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে হাসপাতালের সামনে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী-ঢাকা মহাসড়কে যানজটেরও সৃষ্টি হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে অবৈধ দখল উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।
গতকাল বুধবার (২২ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সরেজমিনে হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে গিয়ে দেখা যায়, সরকারি জায়গা দখল করে অস্থায়ীভাবে ডাব, লেবুর শরবত, আনারস, পেয়ারা, কমলা, আপেলসহ বিভিন্ন ফল ও খাদ্যপণ্যের দোকান বসানো হয়েছে। এছাড়া চায়ের দোকানও গড়ে উঠেছে। হাসপাতালের পাশের জলাশয় (খাল) ঘেঁষে মাটি ও বালু ফেলে বাঁধ তৈরি করে এসব দোকান স্থাপন করা হয়েছে। এমনকি একটি দোকানের পেছনে খালের মধ্যেই একটি টিউবওয়েল বসানোরও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কিছুদিন আগে হাসপাতাল এলাকা থেকে সেনাবাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্প সরিয়ে নেওয়ার পর কয়েকজন সেখানে বাঁশ পুঁতে জায়গা দখলের চেষ্টা করে। তখন দখলের অভিযোগ ওঠে বিএনপির বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানাজানি হলে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির নেতারা প্রশাসনের সহযোগিতায় ওই জায়গা দখলমুক্ত করেন। তবে বর্তমানে আবারও একই স্থানে অস্থায়ী দোকানের আড়ালে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা অভিযোগ করেন, প্রতিদিন নতুন নতুন দোকান বসছে। ছাতা টাঙিয়ে কিংবা অস্থায়ী কাঠামো নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনা করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই। এতে প্রশ্ন উঠেছে, কারা সরকারি জায়গা দখল করে এসব দোকান পরিচালনা করছে এবং তাদের পেছনে কোনো প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়া রয়েছে কি না। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
সচেতন নাগরিকদের মতে, একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে এভাবে অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠা শুধু হাসপাতালের সৌন্দর্যই নষ্ট করছে না, জরুরি স্বাস্থ্যসেবার পরিবেশও ব্যাহত করছে। অ্যাম্বুলেন্স চলাচল, রোগী ওঠানামা এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি মহাসড়কের পাশ ঘেঁষে গড়ে ওঠা এসব অবৈধ স্থাপনার কারণে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
এ অবস্থায় স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে হাসপাতালের সামনের সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করে সব ধরনের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে হাসপাতালের প্রবেশপথ ও আশপাশের এলাকায় সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে জেলা প্রশাসন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য