খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ই জুলাই ২০২৬, ১:৩৬ এএম

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ সরকারি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের বরাদ্দ বণ্টনে এলাকা-প্রীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুমের বিরুদ্ধে। টেস্ট রিলিফ (টিআর), কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) এবং কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) কর্মসূচির আওতায় চলতি অর্থবছরে বরাদ্দপ্রাপ্ত অধিকাংশ প্রকল্পই তাঁর নিজ এলাকা বাগোয়ান ও আশপাশে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
একই সঙ্গে তাঁর বাবার পরিচালিত একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান উল্লেখযোগ্য পরিমাণ খাদ্যশস্য বরাদ্দ পাওয়ায় স্বজনপ্রীতির প্রশ্নও উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরে টিআর, কাবিখা ও কাবিটা কর্মসূচির আওতায় মোট আটটি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। এর মধ্যে সাতটিই বাস্তবায়নের জন্য বাগোয়ান ও আশপাশের এলাকাকে নির্বাচন করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, টিআর কর্মসূচির আওতায় বাগোয়ান জান্নাত জামে মসজিদের উন্নয়নে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং বাগোয়ানের দুটি সড়ক সোলিংয়ের জন্য আরও ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কাবিখা কর্মসূচির আওতায় বাগোয়ান কেসিভিএন স্কুলে মাটি ভরাটের জন্য ৬ মেট্রিক টন চাল এবং একই প্রকল্পে আরও ৬ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া কাবিটা কর্মসূচির আওতায় বাগোয়ান মধ্যপাড়া জান্নাত ঈদগাহে মাটি ভরাটের জন্য ২ লাখ টাকা, বাগোয়ান মধ্যপাড়ার একটি সড়কে হেরিংবন্ড নির্মাণে ২ লাখ টাকা এবং ড. মুহাম্মদ ফজলুল হক ডিগ্রি গার্লস কলেজে মাটি ভরাটের জন্য আরও ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, খাদ্যশস্যের এই বরাদ্দের মধ্যে অতিরিক্ত ১২ মেট্রিক টন চাল-গম পেয়েছে এমপির বাবা আব্দুল হালিম টমের পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। এ কারণে সরকারি বরাদ্দ বণ্টনে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আরও দাবি করেন, এমপির নিজ গ্রামের জামে মসজিদের জন্য ৩ লাখ টাকার বরাদ্দ এবং ঈদগাহের মাটি ভরাটে আরও ২ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এমপির বাড়ির পাশ দিয়ে কবরস্থানে যাওয়ার মূল সড়ক সংস্কারের পরিবর্তে কবরস্থানের ভেতরের রাস্তা নির্মাণে সরকারি অর্থ ব্যয় করা হয়েছে, যা জনস্বার্থের পরিবর্তে ব্যক্তি-স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার অভিযোগকে উসকে দিয়েছে।
এ বিষয়ে এমপির বাবা ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হালিম টম বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এসব উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ এসেছে। এখানে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার কোনো বিষয় নেই। অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুম বলেন, আমি দৌলতপুর এলাকায় বরাদ্দ দিয়েছি। কিছু টাকা ও খাদ্যশস্য সম্ভবত সদর এলাকায়ও দেওয়া হয়েছে। এসব বিষয় আমি সরাসরি দেখি না। বিস্তারিত জানতে আমার ব্যক্তিগত সহকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
এ বিষয়ে সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ রফিকুজ্জামান টুকু বলেন, সংরক্ষিত মহিলা আসনের একজন সংসদ সদস্য কোনো একটি নির্দিষ্ট এলাকার প্রতিনিধি নন। তিনি একাধিক সংসদীয় এলাকার প্রতিনিধিত্ব করেন। তাই সরকারি উন্নয়ন বরাদ্দ যদি নিজের বাড়ির আশপাশেই বেশি কেন্দ্রীভূত হয়, তাহলে তা প্রশ্নের জন্ম দেয়। বরাদ্দ বণ্টনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও ভারসাম্য নিশ্চিত করতে সরকারের সুস্পষ্ট নীতিমালা থাকা জরুরি।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য