খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ই জুলাই ২০২৬, ৩:০ এএম

খোকসা প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় মাদক বেচাকেনা ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে সশস্ত্র হামলায় দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত দুইজন আহত হয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৭ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার ওসমানপুর ইউনিয়নের দেবীনগর ব্রিক ফিল্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, ওসমানপুর ইউনিয়নের হিজলাবট ব্রিক ফিল্ড এলাকার মৃত চাঁদ আলীর ছেলে ফারুক হোসেন (৪০) এবং একই ইউনিয়নের খানপুর গ্রামের আতিয়ার শেখের ছেলে আব্দুল শেখ (২৫)।
আহতদের মধ্যে মুল্লুক মণ্ডল কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় মাদক বেচাকেনা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ছালিম হোসেন ও মিন্টু চৌকিদার গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল। গত ১৩ জুলাই এ বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রতিপক্ষের হামলায় হাসান শেখ নামে একজন গুরুতর আহত হন। এর জের ধরে গভীর রাতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের দাবি, রাত সাড়ে ১২টার দিকে ৮০ থেকে ১০০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছালিম হোসেনের বাড়িতে হামলা চালায়।
হামলার সময় ছালিম হোসেন পালিয়ে গেলেও বাড়িতে থাকা ফারুক হোসেন, আব্দুল শেখ ও মুল্লুক মণ্ডল হামলাকারীদের কবলে পড়েন। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাদের গুরুতর আহত করে। ঘটনাস্থলেই ফারুক হোসেন ও আব্দুল শেখ মারা যান। পরে স্থানীয়রা আহত মুল্লুক মণ্ডলকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। নিহত ফারুক হোসেনের স্ত্রী রাহেলা অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ তার স্বামীকে মাদক ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। তিনি রাজি না হওয়ায় প্রায় এক মাস আগে তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয় এবং প্রাণভয়ে তিনি দেবীনগরে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন।
সেখানেই হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। অন্যদিকে নিহত আব্দুল শেখের মা ময়না খাতুন বলেন, প্রতিপক্ষের ভয়ে তার ছেলে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বাড়ির বাইরে ছিলেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় তার স্বামীকে কুপিয়ে আহত করার পর গভীর রাতে তার ছেলেকেও হত্যা করা হয়। তবে পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেন বলেন, স্থানীয় মিন্টু চৌকিদার ও ছালিম হোসেন গ্রুপের বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে গ্রামপুলিশ মিন্টু চৌকিদার ও নূর আমিন নামে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ বলেন, মাদকসংক্রান্ত বিষয়সহ আরও কয়েকটি বিষয়ে দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ ছিল জানিয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, এলাকার পরিস্থিতি আপাতত শান্ত। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন আছে। জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য