খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ই জুলাই ২০২৬, ৩:৩৫ এএম

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ তেল, গ্যাসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ঊর্ধ্বগতি এবং দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির প্রতিবাদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে কুষ্টিয়ায় ‘নাগরিক সমাবেশ’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার (১৮জুলাই) বিকাল ৩টায় কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কুষ্টিয়া জেলা শাখার উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক।
কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আব্দুল লতিফ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে আল্লামা মামুনুল হক বলেন, “দেশের সাধারণ মানুষ আজ তেল, বিদ্যুৎ ও নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে দিশেহারা। জনগণের পকেট কেটে সিন্ডিকেটবাজদের পকেট ভারী করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে চরম অবনতি ঘটেছে, তাতে নাগরিকদের জানমালের কোনো নিরাপত্তা নেই।” তিনি অবিলম্বে গণভোটের গণমুখী রায় বাস্তবায়ন এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানান। তিনি আরো বলেন, জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইসলামী ও দেশপ্রেমিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
অন্যায়, জুলুম ও শোষণের বিরুদ্ধে রাজপথে গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে দ্বিজাতীয় রাজনীতির কবর রচিত হয়েছে মন্তব্য করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, ‘এদেশের মজলুম জনতা গণভোটের রায়ের বাস্তবায়ন দেখতে চায়।’ মামুনুল হক বলেন, ‘জুলাই বিপ্লব নিয়ে বিএনপি গাদ্দারী করছে। ৬৯ শতাংশ জনগণের রায়কে শ্রদ্ধা না জানিয়ে নিজেদের মতো করে ভুলভাল বুঝিয়ে জাতির সাথে বেঈমানী করছে কিন্তু আপনারা জানেন এক মাঘে কখনো শীত যায় না। মাঘ প্রতি ঋতুতে আসে আর যায়। বিএনপি আওয়ামী লীগের মতো চায় দ্বিজাতীয় রাজনীতি এ দেশে চালু থাকুক কিন্তু জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে দ্বিজাতীয় রাজনীতির কবর রচিত হয়েছে। বাংলার মাটিতে কখনো এই দ্বিজাতীয় রাজনীতির স্থান হবে না।
নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে জুলাই শহীদ এবং আহতদের রক্তের সাথে যারা বেঈমানী করবে তাদের সাথে কোনো আপস নেই। যারা দেশ ও জাতির শত্রু, তারা কখনো জাতির বন্ধু হতে পারে না। তাই গণভোটের রায়কে বাস্তবায়নে আর কালক্ষেপণ না করে দ্রুত কার্যকর করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পথ অনুসরণ করছে। তাতে বিএনপি মারাত্মক ক্ষতির মধ্যে পড়বে। এদেশের মজলুম জনতা গণভোটের রায়ের বাস্তবায়ন দেখতে চায়। ৬৯ শতাংশ গণভোটের রায় বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কার্পণ্যতা, শৈথিলতা বা অবহেলার কোনো সুযোগ নেই। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে ফ্যাসিস্ট সরকারকে এদেশ থেকে যেভাবে বিতাড়িত করা হয়েছিল ঠিক তেমনি কোটি কোটি জনতা বিএনপিকে এ দেশছাড়া করবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের সূচনা ছিল ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বর থেকে, যার পরিসমাপ্তি ঘটেছিল ৩৬ জুলাই ২০২৪। ৩৬ জুলাই ছিল একটি চেতনা ও পরিবর্তনের নাম। জুলাই আন্দোলনের রূপরেখা ছিল ফ্যাসিস্ট উচ্ছেদ, বৈষম্য শেকড়ে উপড়ে ফেলা এবং সাম্য প্রতিষ্ঠা। জুলাই আন্দোলনে বিএনপি অংশীদার হিসেবে ছিল কিন্তু আজ মসনদে বসে জুলাই গণভোটকে অস্বীকার করে তারা নানা অজুহাতে জুলাই গণভোটের রায় এবং জুলাই সনদকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু তা কখনো সম্ভব নয়। প্রয়োজনে আরো একটি বিপ্লব হবে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য। আর তাতে বিএনপিকে চরম মূল্য দিতে হবে।’ তিনি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের যুগের ইতিহাস টেনে বিএনপির বর্তমান অবস্থার সাথে তুলনা করে বলেন, ‘এ দেশের আপামর জনগণ ’৭১ দেখেছে, ৯০’র গণঅভ্যুত্থান দেখেছে আর সর্বশেষ জুলাই বিপ্লব দেখেছে।
ক্ষমতা কখনো স্থায়ী হয় না। বিএনপি আওয়ামী লীগের মতো নিজেদের মধ্যে ক্ষমতার ভাগাভাগির রাজনীতি করতে চায়, কিন্তু সেটা আর সম্ভব নয়।’ মামুনুল হক বলেন, ‘আওয়ামী লীগ উন্নয়নের গণতন্ত্রের রাজনীতিতে বিশ্বাসী ছিল। তাই শুধু উন্নয়নের নাম ভাঙ্গিয়ে লুঠপাট করেছে আর ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করেছিল। কিন্তু জনগণ ও দেশের মানুষের মন জয় করতে পারেনি। বিধায় অবৈধভাবে নির্বাচনের প্রহসন দেখিয়ে ১৭টি বছর দেশকে এক অস্থিতিশীল রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। মামলা, জেল-জুলুম ও অত্যাচারের মাত্রা সীমা ছাড়িয়েছিল- বিরোধী মতের মানুষদের ওপর। বিএনপি যদি আওয়ামী লীগের পথ অনুসরণ করে, তাহলে তাদের পরিণতি আরো ভয়ঙ্কর হবে। আশা করি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শুভবুদ্ধির উদয় হবে।’ তিনি দলবল নির্বিশেষে বাংলাদেশের আপামর জনগণকে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে যে কোন আন্দোলনে যোগ দেয়ার আহ্বান জানান।
এর আগে কুষ্টিয়ার জুলাই আহত যোদ্ধাদের পক্ষ থেকে আল্লামা মামুনুল হককে ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়া হয়। সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও ময়মনসিংহ-২ আসনের সংসদ সদস্য মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহ। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম, যুগ্ম মহাসচিব মুফতী শরাফত হুসাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী, বায়তুলমাল সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমান এবং বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের সভাপতি পরিষদ সদস্য মাওলানা আব্দুল্লাহ আশরাফ। সমাবেশে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কুষ্টিয়া জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি মুফতী রেজাউল করিম। হাফেজ জাহিদ হাসানের পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতা অধ্যাপক ড. সহিদুল বারী। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, কুষ্টিয়া জেলা ছাত্র মজলিসের সভাপতি তুষার, যুব মজলিসের মাওলানা শারাফাত হুসাইন, দৌলতপুর থানা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা আজিম উদ্দিন, ভেড়ামারা থানা সভাপতি মাওলানা আবু সাইদ, মিরপুর থানা সভাপতি মাওলানা খায়রুল ইসলাম, মিরপুর পৌর সেক্রেটারি মাওলানা আবুল হাসেম, কুষ্টিয়া সদর সভাপতি মুফতী বশির উদ্দিন, কুষ্টিয়া পৌর সভাপতি মুফতী হারুনুর রশীদ এবং ইবি শাখার সভাপতি হাফেজ মাওলানা মুফতী আলমগীর হোসেন প্রমুখ।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য