খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ই জুলাই ২০২৬, ৩:২ এএম

নাজমুল ইসলাম, দৌলতপুর ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের মাজদিয়াড় ও কোলদিয়াড় এলাকায় পদ্মা নদীতে নতুন পানি প্রবেশের পর তীব্র নদীভাঙন শুরু হয়েছে। গত ১৫ থেকে ২০ দিনে ভাঙনের কবলে পড়ে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন কৃষকের ২০০ থেকে ৩০০ বিঘা আবাদি জমি ও বিভিন্ন ফসল নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। গতকাল শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে মরিচা ইউনিয়নের মাজদিয়াড় ও কোলদিয়াড় এলাকার পদ্মা নদীর তীর পরিদর্শনে দেখা যায়, প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।
নদীর তীব্র স্রোতে একের পর এক ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ওই এলাকায় পদ্মা নদীর বিপদসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৮০ মিটার। বর্তমানে পানির উচ্চতা রয়েছে ৯ দশমিক ৩৭ মিটার, যা বিপদসীমার ৪ দশমিক ৪৩ মিটার নিচে। তাই আপাতত পানি বিপদসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা নেই। তবে নদী ভাঙ্গন রোধে ইমারজেন্সি জিও ব্যাগের ব্যবস্থা রয়েছে। ওই এলাকার স্থানীয় কৃষক নেন্টু (৬২) জানান, গত ১৫ দিনে তার প্রায় আট বিঘা পাটখেতসহ আবাদি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে।
তিনি বলেন, প্রতিবছরই আমরা নদীভাঙনের শিকার হই। এবারও একই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। মাজদিয়াড় এলাকার কৃষক ইউসুফ আলী জানান, গত ১২ থেকে ১৫ দিনে তার প্রায় পাঁচ বিঘা জমি, ঘাস ও পাটখেতসহ নদীতে বিলীন হয়েছে। তিনি নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান। এছাড়া ইয়াসিন প্রামাণিকের ছয় বিঘা, আমিরুল ইসলামের আট বিঘা, নজরুল ইসলামের তিন বিঘা, বাবুল প্রামাণিকের আড়াই বিঘা এবং সাধু ফরাজির ১২ বিঘাসহ প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন কৃষকের মোট ২০০ থেকে ৩০০ বিঘা ফসলি জমি ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অভিযোগ, প্রায় এক মাস ধরে ভাঙন চললেও এখন পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ড বা প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাননি কিংবা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি। এ বিষয়ে মরিচা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও পদ্মার ভাঙন শুরু হয়েছে। গত ১৫ থেকে ২০ দিনে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রশাসন বা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো কর্মকর্তা খোঁজ নেননি।
এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। বরং ফোনটি কেটে দিয়ে বন্ধ করে রাখেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুর রহমান বলেন, নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কিছু এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় জিও ব্যাগ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত ভাঙনকবলিত এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় পদ্মা পাড়ের বাসিন্দারা বলেন, প্রতিবছরই পদ্মার ভাঙনে হাজার হাজার একর ফসলি জমি ও অসংখ্য পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। অনেক পরিবার একাধিকবার ঘরবাড়ি হারিয়ে এখন আর পিছু হটার মতো কোনো জায়গা নেই। তারা একাধিকবার মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করলেও স্থায়ী নদীশাসনের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাই ভবিষ্যতে পুরো গ্রাম রক্ষায় দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ও কার্যকর নদীশাসনের দাবি জানান তারা।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য