খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ই জুলাই ২০২৬, ২:৫৭ এএম

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া জেলা ও শহরবাসীর দীর্ঘদিনের আরেকটি লালিত স্বপ্ন এবার বাস্তবায়িত হতে চলেছে। কুষ্টিয়ার প্রধান নদী গড়াই ও পদ্মার তীর ঘেঁষে নির্মাণ হতে যাচ্ছে একটি দীর্ঘ ও প্রশস্ত সংযোগ সড়ক, যা কুষ্টিয়া শহরের যানজট নিরসনসহ অবঠামো ও সৌন্দর্যের আমূল পরিবর্তন ঘটাবে। এই প্রস্তাবিত সড়কটি মূলত কুষ্টিয়া শহরের জন্য একটি নতুন ও আধুনিক ‘বাইপাস সড়ক’ হিসেবে কাজ করবে। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে প্রকল্প এলাকার বাস্তব অবস্থা পরিদর্শনে যান সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা। পরিদর্শনকালে কুষ্টিয়ার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীগুলোর সংযোগ ও বাঁধ সংলগ্ন এলাকা ঘুরে দেখেন তারা।
জানা যায়, কুষ্টিয়ার গড়াই নদীর সৈয়দ মাছ উদ রুমি ব্রিজের নিচ দিয়ে এই প্রশস্ত রাস্তার কাজ শুরু হবে। এরপর এটি যথাক্রমে-জেলা পরিষদ পার্ক, বড় বাজার ও থানাপাড়ার নিচ দিয়ে সোজা হরিপুর ব্রিজকে সংযুক্ত করবে। পরবর্তীতে হরিপুর ব্রিজ থেকে সড়কটি কমলাপুর হয়ে রানাখড়িয়ার দিকে অগ্রসর হবে এবং সর্বশেষ ভেড়ামারা রোডে গিয়ে মিলিত হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, গড়াই ও পদ্মা নদীর উভয় পাড়ের নদীকেন্দ্রিক এই সড়কটির নির্মাণ সম্পন্ন হলে কুষ্টিয়া শহরের সামগ্রিক অবকাঠামোতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। এটি কুষ্টিয়াকে আরও আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন একটি শহর হিসেবে গড়ে তুলতে অনন্য ভূমিকা রাখবে। উক্ত পরিদর্শনে এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের রূপরেখা পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে উপস্থিত ছিলেন বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও টেকনিক্যাল এক্সপার্ট।
তাদের মধ্যে রয়েছেন-গ্রেটার কুষ্টিয়া রুরাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের পিডি ইঞ্জিনিয়ার কামরুজ্জামান, সাবেক সিনিয়র সচিব খন্দকার কবিরুল ইসলাম, কুষ্টিয়া এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রাজু আহমেদ, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার উপজেলা প্রকৌশলী এবং এলজিইডির অন্যান্য কর্মকর্তারা। এবিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার জানান, এই সড়কটি “গ্রেটার কুষ্টিয়া রুরাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট”-এর অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে খুব দ্রুতই এই কাদা-মাটি ও অবহেলিত মাটির রাস্তাটিকে আধুনিক পিচঢালা ও প্রশস্ত সড়কে রূপান্তর করা সম্ভব হবে। সড়কটি আলোর মুখ দেখলে কেবল যোগাযোগ ব্যবস্থারই উন্নতি হবে না, বরং নদীর তীরবর্তী পর্যটন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য