খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ই জুলাই ২০২৬, ২:৪৩ এএম

ইবি প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানাধীন ঝাউদিয়া ইউনিয়নের বৈদ্যনাথপুর গ্রামে ভূমিহীন বাকপ্রতিবন্ধী এক নারীকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার দু’দিন পর ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত একজনকে আটক করেছে পুলিশ। এদিকে, ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে চেষ্টা করছে স্থানীয় একটি মহল।
এতে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে ভুক্তভোগীর পরিবার। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী হামিদা (ছদ্মনাম) ঝাউদিয়া ইউনিয়নের বৈদ্যনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা। নিজস্ব কোন জমি না থাকায় সে ও তার স্বামী অন্যের পরিত্যক্ত বাড়িতে সপরিবারে বসবাস করেন। গত ১৪ জুলাই দুপুরে ভুক্তভোগী নারী ঘরের বারান্দায় বসে কাঁথা সেলাই করছিলেন। এসময় একই গ্রামের পাশের বাড়ির প্রতিবেশী মৃত হবিবরের ছেলে ফারুক হোসেন (৪৫) সুযোগ পেয়ে হামিদা (ছদ্মনাম) কে জাপটে ধরে পাশের ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে। এসময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ভুক্তভোগী নারীরচোখে আঘাত পায়।
ভুক্তভোগী নারীর ঘর থেকে চাপা শব্দ শুনে অপর প্রতিবেশী মৃত মকছেদ মন্ডলের ছেলে পল্টু এবং বাদশা লাঠি নিয়ে দৌড়ে এলে অভিযুক্ত ফারুক ঘরের জানালা ভেঙ্গে পালিয়ে যায়। এদিকে ধর্ষণের বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ভুক্তভোগী নারীর স্বামীকে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় একটি মহলের বিরুদ্ধে। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, পাশবিক নির্যাতনের ঘটনার আইনি প্রতিকার চেয়ে আজ দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে ভুক্তভোগী নারী ঝাউদিয়া পুলিশ ক্যাম্পে যাওয়ার পথে তাকে বাধা দেয় স্থানীয় সাবেক ওয়ার্ড মেম্বার নুরুল ইসলামের ছেলে মাসুম (৩৫) এবং খবিবর সরদারের ছেলে মিঠু সরদার (৫০)।
ভুক্তভোগীর পথরোধ করলে একপর্যায়ে স্থানীয় জনতা এগিয়ে এলে তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়। এদিকে, ভূমিহীন এই বাকপ্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযোগ পাওয়ার পরপরই অভিযুক্ত ফারুক হোসেন (৪৫) কে আটক করেছে ইবি থানা পুলিশ। ঝাউদিয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মোঃ আরব আলীর নেতৃত্বে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে অভিযুক্ত ফারুক আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মাসুদ রানা। তিনি বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার আগেই মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে ঝাউদিয়া এলাকা থেকে আমরা আসামিকে গ্রেফতার করেছি। এরপরে ভিকটিমকে থানায় এসে লিখিত এজাহার দিচ্ছে। মামলার বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে ভুক্তভোগী নারীর স্বামীকে ভয়ভীতি দেখানোর যে অভিযোগ রয়েছে সেই তথ্য আমার কাছে নেই বলে জানান ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মাসুদ রানা।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য