খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ই জুলাই ২০২৬, ৩:০ এএম

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে কুষ্টিয়া পৌরসভার ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডবাসীর যৌথ উদ্যোগে এক মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে বাদ আছর শহরের কুঠিপাড়া মডেল মসজিদ এলাকার ঈদগাহ ময়দানে মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, জেলা বিএনপির আহবায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ। প্রধান বক্তা ছিলেন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার।
বিশেষ অতিথি ছিলেন, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার হারুন অর রশীদ, কুষ্টিয়া মডেল থানার কর্মকর্তা মোস্তাফিজ, জেলা বিএনপি সদস্য মহিউদ্দিন চৌধুরী মিলন, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আল আমীন রানা কানাই, পৌর বিএনপির সাবেক আহবায়ক শওকত হাসান বুলবুল, পৌর বিএনপি সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন, পৌর যুবদলের আহবায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সুমন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাবেক কাউন্সিলর আতাউল গনি ওসমান ও সঞ্চালনা করেন পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক সোহানুর রহমান লিংকন।
অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন, পৌর ৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আসলাম, পৌর যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক জাকির হোসেন জনি ও কামরুজ্জামান কামু, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক হিমেল শেখ ও সদস্য মঞ্জুরুল শেখ লিংকন, পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট ছাত্রদল নেতা ইয়াছিন আরাফাত। এছাড়া সমাবেশে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।
এসময় জেলা বিএনপির আহবায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, খুব দ্রুত সময়ে এলাকায় মাদক বিরোধী কমিটি করা হবে। কমিটির কাজ হবে যারা নোংরা কাজের সাথে জড়িত তাদেরকে ফেরানো। আমরা শুধু মাদক নির্মূল না, যারা বেকার তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। শুধু শাস্তি দিলাম ব্যাপারটা এমন না, যারা ভালো হতে চাই তাদের সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। তিনি আরো বলেন, মূল যে রেকেট সেটার পিছনে কোন না কোন রাজনৈতিক ছত্রছায়া থাকে। এর পিছনে অবশ্যই কোন না কোনভাবে প্রশাসন জড়িত থাকে। যদি প্রশাসন জড়িত না থাকে তাহলে মাদক কেনো নির্মূল হবে না? মাদক কেনাবেচাকারীদের সংখ্যা তো বেশি না।
তারপরও এর বিরুদ্ধে আমরা প্রতিরোধ করছি, প্রতিবাদ গড়ে তুলছি এবং একটা নিরাময় অবস্থা হওয়ার চেষ্টা করছি। মাদক বেশি দেখা যায় শ্মশান, চরমিল এলাকা সহ বস্তি এলাকায়। এই এলাকা গুলো একটা রিমোট এলাকা। আজকে যে মেয়েরা এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে ঘর ছেড়ে বাইরে এসেছে। গোলমাল দেখলে যে মেয়েরা ঘরের দরজা দেয়, সে মেয়েরা যখন কোন অন্যায়ের বিরুদ্ধে পথে বের হয় সেই শক্তিকে উপেক্ষা করা কোন অপশক্তি রাখে না। তিনি বলেন, মাদকের সিন্ডিকেট ভাঙতে হলে কাজের ধরন চেঞ্জ করতে হবে, গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে।
জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, এই এলাকা একের পর এক নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এলাকার তরুন যুব সমাজ মাদকের নেশায় ধ্বংসের দিকে চলে যাচ্ছে। মাদকের বড় চক্রের বিরুদ্ধে নজরদারি বাড়াতে হবে। যারা বাইরে থেকে বিক্রি করতে আসে এবং এলাকায় স্থানীয় ভাবে যারা ব্যবসা করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে। মাদকের ভয়াল থাবা থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে হবে এবং এক্ষেত্রে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন এবং সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
তিনি আরো বলেন, মাদকের চক্র ধ্বংস করতে বিজিবি থেকে শুরু করে পুলিশ ও অন্যান্য যে সংস্থা আছে তারা কাজ করছে। আমরা আশাকরি খুব তাড়াতাড়ি মাদকের নেটওয়ার্ক ভেঙে যাবে। তবে এলাকায় যারা মাদক বিক্রি করে চলেন, তারা স্বেচ্ছায় আমাদের জানালে তার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। আপনাদের সকলের সহযোগিতা পেলে আগামী তিন মাসের মধ্যে এলাকা থেকে মাদক নির্মূল করা হবে।
এছাড়া অন্য বক্তারা বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা এবং যুবসমাজকে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সৃজনশীল কাজে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এদিকে স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, মাদকের সাথে জড়িতদের ধরে পুলিশে সোপর্দ করলে পুলিশ টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয়। তবে সমাবেশে উপস্থিত এলাকাবাসী মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তারা নিজ নিজ এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ অভিযোগের পরিপেক্ষিতে বিএনপির শীর্ষ নেতারা বলেন, সব পুলিশ খারাপ না। তবে পুলিশ যদি এমন কাজ করে তাহলে আমাদের জানাবেন। যে পুলিশ টাকা নিবে এমন প্রমান পেলে তাকে বসিয়ে রেখে আমাদের খবর দিন। মডেল থানার এক কর্মকর্তা মোস্তাফিজ বলেন, আপনারা কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিবেন না। ফোনে পুলিশকে না পেলে ৯৯৯ কল করবেন। আর যে সকল পুলিশের নামে অভিযোগ থাকবে তাদের বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিবেন। তিনি বলেন, মাদক নির্মুলে সকলকে সহযোগিতা করতে হবে। পুলিশ আপনাদের সাথে আছে। মাদক সহ কাউকে আটকালে আইন নিজের হাতে তুলে নিবেন না।
আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে প্রশাসনকে জানান। যারা দোষী তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এক বার্তায় পৌর যুবদলের আহবায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সুমন বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাদককে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। সারা বাংলাদেশে মাদক নির্মূলে আইনী পদক্ষেপ গ্রহনের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে সারা বাংলাদেশ থেকে মাদক নির্মূল হলে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। সেই সাথে কুষ্টিয়া জেলা থেকে মাদক নির্মূলে জেলা বিএনপিসহ তার অন্য সহযোগী সংগঠন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
তিনি আরো বলেন, মাদক যুব সমাজকে ধ্বংস করছে এর প্রতিকারে সকলের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন। আমরা চাই মাদক থেকে সকলে দুরে থাকুক। কুষ্টিয়া থেকে মাদক মুক্ত করতে জেলা বিএনপি যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তাদের পাশাপাশি মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য