দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে বাংলা প্রথমপত্রে ১৭ জন শিক্ষার্থীকে ভুলবশত ২০২৫ সালের সিলেবাসের (অনিয়মিত) প্রশ্নপত্র দিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। প্রায় ১ ঘণ্টা ৫ মিনিট পর বিষয়টি ধরা পড়লে তাদের নতুন প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়। তবে অতিরিক্ত সময় হিসেবে মাত্র আধা ঘণ্টা দেওয়ায় বিপাকে পড়ে শিক্ষার্থীরা।
গতকাল মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) পরীক্ষাকেন্দ্রে এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে কেন্দ্রসচিব ও দুই কক্ষ পরিদর্শককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ। উপজেলা প্রশাসন, পরীক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষা শুরুর পর বালিরদিয়াড় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বাহারুল ইসলাম এবং ভুরকাপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রাশেদা খাতুন ১৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২০২৫ সালের পুরোনো প্রশ্নপত্র বিতরণ করেন।
পরীক্ষার প্রায় ১ ঘণ্টা ৫ মিনিট পর শিক্ষার্থীরা প্রশ্নপত্রে অসঙ্গতি বুঝতে পেরে কক্ষ পরিদর্শকদের বিষয়টি জানান। পরে নতুন প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হলেও হারানো সময়ের তুলনায় মাত্র ৩০ মিনিট অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়। এতে শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। পরীক্ষা শেষে অনেককে কান্নাকাটি করতে দেখা যায়। খবর পেয়ে ইউএনও অনিন্দ্য গুহ তাৎক্ষণিক কেন্দ্রে গিয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হন।
পরে যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করে কেন্দ্রসচিব ইয়ার আলী, কক্ষ পরিদর্শক বাহারুল ইসলাম ও রাশেদা খাতুনকে পরীক্ষা-সংক্রান্ত সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ইউএনও অনিন্দ্য গুহ বলেন, বোর্ডের সঙ্গে কথা বলে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের রোল নম্বর পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে দায়ীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে অভিভাবকরা দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ন্যায়সঙ্গত মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন।
