খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২ই জুলাই ২০২৬, ২:২৫ এএম

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিপুর ও মোহনাটেক এলাকায় পদ্মা নদীতে দীর্ঘদিন ধরে চলা অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসবে অবশেষে হানা দিয়েছে পাবনার ঈশ্বরদীর লক্ষ্মীকুন্ডা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি। মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে অবৈধ বালু এবং বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত ৩টি ড্রেজার ও বাল্কহেড নৌকা জব্দ করা হয়েছে। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৪০ লক্ষ ৩২ হাজার টাকা। এ সময় হাতেনাতে আটক করা হয়েছে ৭ জন বালুদস্যুকে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আরও অন্তত ২০-২৫ জন অপরাধী অন্ধকারে নদীতে ঝাঁপিয়ে ও নৌকাযোগে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট কুষ্টিয়া সদর মডেল থানার হরিপুর মোহনাটেক এলাকার পদ্মা নদী থেকে আইন অমান্য করে অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন ও পরিবহন করে আসছিল। এর ফলে সরকারের কোটি কোটি টাকায় নির্মিত নদী রক্ষা বাঁধ, ফসলি জমি এবং স্থানীয় পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত আনুমানিক পৌনে ৮টার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাবনার ঈশ্বরদীর লক্ষ্মীকুন্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) খন্দকার শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল স্পিডবোট যোগে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
পুলিশ দল কুষ্টিয়া জেলার হরিপুর মোহনাটেক এলাকার পদ্মার চরে পৌঁছালে বালুদস্যুরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশ ধাওয়া করে ঘটনাস্থল থেকে ৭ জন আসামিকে আটক করতে সক্ষম হয়। আটককৃতরা বালুদস্যুরা হলেন-কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বহলবাড়ীয়া গ্রামের মৃত ফেরত আলীর ছেলে মোঃ সালাম মিয়া ওরফে সুকানি(৪৭), একই উপজেলার নওদা তালবাড়ীয়া গ্রামের মৃত রিফাত আলীর ছেলে মোঃ সুমন আলী (৩৮), বহলবাড়ীয়া গ্রামের মৃত পলান মন্ডলের ছেলে মোঃ মফিজুল মন্ডল (৫০), বহলবাড়ীয়া গ্রামের মৃত কেরামত আলীর ছেলে মোঃ ইসকেন (৪০), সামুখিয়া গ্রামের মোঃ শহর আলী প্রামানিকের ছেলে ড্রেজার মালিক মোঃ শরিফুল ইসলাম (৪৮), চারুলিয়া গ্রামের মৃত করিম মাষ্টারের ছেলে মোঃ রাজু আলী (৪৫) এবং ভেড়ামারা উপজেলার মসলেমপুর গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে মোঃ শিমুল (২০)।
এজহারে উল্লেখ করা হয়েছে, পলাতক অপর ২০-২৫ জন আসামি ধৃত আসামিদের সহযোগী এবং তারা অবৈধ বালু ব্যবসায়ের মূল অর্থদাতা ও নৌযানের চালক-শ্রমিক। এ সময় ১টি বাল্কহেড নৌকা, উত্তোলিত অবৈধ বালু, ১ম বাংলা ড্রেজার, ২য় বাংলা ড্রেজার জব্দ করা হয়। জব্দকৃত মালামালের মূল্য ৪০ লক্ষ ৩২ হাজার টাকা। এই ঘটনায় লক্ষ্মীকুন্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক খন্দকার শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে গতকাল বুধবার (১ জুলাই) কুষ্টিয়া সদর মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। যার মামলা নম্বর- ৪।
আসামিদের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ‘বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন’-এর ১৫(১) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪৩১/৩৪ ধারায় (নদী ও জনপথের ক্ষতিসাধন) অভিযোগ আনা হয়েছে। ১ জুলাই দুপুরে আটক ৭জন আসামিকে কড়া পুলিশি পাহারায় কুষ্টিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে প্রেরণ করা হয়। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোঃ সফি উদ্দিন মিয়া আসামিদের জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে আটকে রাখার আবেদন জানিয়েছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই বালুদস্যু চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে হরিপুর ও রানাখড়িয়া এলাকায় নদীর তলদেশ থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু তোলায় বর্ষা মৌসুম শুরু হতেই তীব্র নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। পুলিশের এই তাৎক্ষণিক ও সাহসী অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন নদীপাড়ের মানুষ। স্থানীয় সচেতন মহল কুষ্টিয়ার নদী ও পরিবেশ রক্ষায় এই ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য