বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার আলামপুর ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামে ভ্যানযোগে বাড়ি ফেরার পথে আরজু নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রাজাপুর গ্রামের বটতলা এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত আরজুর অভিযোগ, প্রায় তিন মাস আগে ব্যাটারি চুরির একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে মিটিং ডাকা হয়। ওই ঘটনায় তার মেজ ভাই সাক্ষ্য দেন। এরপর থেকেই সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে তাদের ওপর হামলার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার তাকে একা পেয়ে হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ তার। আরজু জানান, মঙ্গলবার বিকেলে আলামপুর বাজার থেকে ভ্যানযোগে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। রাজাপুর গ্রামের বটতলা এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে অবস্থান করা কয়েকজন তাকে ঘিরে ধরে হামলা চালায়। এ সময় তিনি ভ্যানের ওপর একাই ছিলেন। হামলাকারীরা তাকে কুপিয়ে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ করেন তিনি। আহতের দাবি, হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে আলামিন, রনি, জনি, হাফিজ, মন্নান, সাগর, সফি, নাগর ও খালেকসহ আরও ৫-৬ জন ছিলেন।
হামলাকারীদের তিনি সবাইকে চেনেন বলেও জানান। হামলায় আরজুর বাম হাতে গুরুতর জখম হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, তার বাম হাতের ছয়টি রগ কেটে যাওয়ায় গুরুতর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষতস্থানে ভেতর ও বাইরে মিলিয়ে শতাধিক সেলাই দেওয়া হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আরজু বলেন, আমার ভাই ওই ঘটনার সাক্ষী দেওয়ার কারণেই তারা আমাদের ওপর ক্ষুব্ধ ছিল। আমাকে একা পেয়ে সুযোগ বুঝে তারা হামলা চালিয়েছে। সবাই মিলে আমাকে কুপিয়েছে ও মারধর করেছে।
আহতের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বুধবার সকালে কুষ্টিয়া সদর থানায় গিয়ে এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হবে। হামলায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। এদিকে, এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত গভীর রাত হওয়ায় আহতের চিকিৎসা ও জখমের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এছাড়া অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তিদের বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।









