কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

 শিক্ষক দম্পতির বিরুদ্ধে তদন্তে নামছে আজ

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে ভাড়াটিয়া শিক্ষক দিয়ে কোচিং ও প্রাইভেট বাণিজ্যের অভিযোগে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ৮৩ নম্বর চর চাদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল হামিদ ও সহকারী শিক্ষক গোলাপী পারভীনের বিরুদ্ধে আজ সোমবার তদন্তে নামছে শিক্ষা বিভাগ। গত বৃহস্পতিবার সংবাদ প্রকাশের পর তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই দুই শিক্ষক সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী।

১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি উপজেলার পদ্মাপাড়ের দুর্গম এলাকা চরসাদিপুর ইউনিয়নে অবস্থিত। এদিকে বিদ্যালয়ের কোচিং বাণিজ্যের বিষয়ে সাংবাদিকদের সাক্ষাৎকার দেওয়ায় গতকাল রোববার (২৩ আগষ্ট) সকালে এক শিক্ষার্থীকে গণিত পরীক্ষার হল থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই শিক্ষক দম্পতির বিরুদ্ধে। এনিয়ে অভিভাবক বিদ্যালয়ের হাজির হলে তুমুল বাগবিতণ্ডার প্রায় ৩০ মিনিট পরে ওই শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হয়।

এছাড়াও বাগবিতণ্ডার ঘটনা ভিডিও ধারণ করায় ওই শিক্ষার্থীর বড় ভাইয়ের ওপর বিকেলে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। বিকেলে ওই বিদ্যালয়ের সামনে সড়কে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় দুর্বৃত্তরা ওই মোবাইল ফোনটা ভেঙে দেন। জানা গেছে, ২৯৫ জন শিক্ষার্থীর বদলে শিক্ষক মাত্র দুজন। তাও আবার স্বামী – স্ত্রী। তারা শিক্ষক সংকটের দোহায় দিয়ে আরও দুইজনকে ভাড়া নিয়েছেন। শিক্ষক দম্পতি অলস বসে থাকেন। আর ভাড়াটিয়ারা পাঠদানের পাশাপাশি বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে পরিচালনা করেন কোচিং-প্রাইভেট বাণিজ্য। সেজন্য প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে প্রতিমাসে দিতে হচ্ছে ৩০০ টাকা করে বেতন।

ছাড়াও ভাড়াটিয়াদের যাতায়াতে মোটরসাইকেলের তেল বাবদ দিতে হয় আরও ২০ টাকা করে। অথচ, দারিদ্র্যতা দূরীকরণ, সকল শিশুর সমান অধিকার নিশ্চিত এবং দেশে সাক্ষরতার হার বৃদ্ধির লক্ষে ১৯৯০ সাল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা অবৈতনিক এবং বাধ্যতামূলক করেছেন সরকার। জানা গেছে, উপজেলা শহর থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দুরে পদ্মা নদীর ওপারে উত্তর – পশ্চিম এলাকায় চরসাদিপুর ইউনিয়ন। সেখানে প্রায় ৩০ হাজার মানুষের বসবাস। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই। উপজেলা ও জেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র যানবাহন হলো নৌকা। আরও জানা গেছে, বিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৯৫ জন।

৬ শিক্ষকের পদের বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র দুজন। তারা হলেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল হামিদ ও তার স্ত্রী সহকারী শিক্ষক গোলাপী পারভীন। শিক্ষক সংকটের দোহায় দিয়ে রিয়াদ হোসেন ও মো. আলামিন নামের দুইজনকে পাঠদানের জন্য ভাড়া করা হয়েছে। তারা শিক্ষক দম্পতির যোগসাজশে বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে কোচিং এবং প্রাইভেট বাণিজ্য করে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয় হচ্ছে প্রতিমাসে ৩০০ টাকা করে বেতন।

এছাড়াও ভাড়াটিয়া শিক্ষকের যাতায়াতে মোটরসাইকেলের তেল বাবদ নেওয়া হচ্ছে আরো ২০ টাকা। স্থানীয়দের ভাষ্য, ২০১৪ সাল থেকে স্বামী-স্ত্রী একই স্কুলে চাকুরি করে। বর্তমানে তারা ক্লাস নেয়না। দুজন ভাড়াটিয়া দিয়ে বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে প্রাইভেট-কোচিং করায়। ভয়ে শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা মুখ খুলতে পারেনা। সরকারি স্কুলে এমন অনিয়ম মানা যায়নি। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলে, আজ (গতকাল) গণিত পরীক্ষা ছিল।

সাংবাদিকদের বক্তব্য দেওয়ায় পরীক্ষার হল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। পরে মা আর ভাই গেলে ৩০ মিনিট পর পরীক্ষায় বসতে দেছে। নিউজ হওয়ার পর থেকেই স্যাররা খুব নির্যাতন করছে আমাদের। ওই শিক্ষার্থীর বড় ভাই বলেন, নিউজ দেখে দেখে ছেলেমেয়েদের ওপর নির্যাতন করছেতে। আজ (গতকাল) আমার ভাইকে পরীক্ষার হল থেকে বের করে দিছে। পরে আমরা গেলে তর্কাতর্কি হয়। সেগুলো ভিডিও ধারন করে সাংবাদিকরা দেওয়ায় বিকেলে আমার ওপর হামলা হয়েছে। মোবাইলটা ভেঙে ফেলা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।

আর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল হামিদ বলেন, ‘ দুইজন শিক্ষক মিলে ২৯৫ জন শিক্ষার্থীকে পড়াতে হিমসিম খাচ্ছি। ওই শিক্ষার্থীকে বের করে দেওয়া হয়নি। উনার অভিভাবককে ডাকতে পাঠিয়েছিলাম। তবে হামলার বিষয় জানা নেই। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বেতন দিয়ে পড়া লাগেনা। প্রাথমিক শিক্ষা অবৈতনিক বলে জানিয়েছেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সিরাজুম মনিরা। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি গণমাধ্যমে আসার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সোমবার তদন্তে যাওয়া হবে। দোষ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা করা হবে।

 

Tags :

কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স, কুষ্টিয়া জিলাইভ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর