নিজ সংবাদ ॥ সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬’ পালিত হলেও কুষ্টিয়ার পর্যটন খাত যেন সম্ভাবনা আর বাস্তবতার মাঝখানে আটকে আছে।
লালন শাহের সাধনভূমি, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিধন্য শিলাইদহ, মীর মশাররফ হোসেন ও কাঙাল হরিনাথের স্মৃতিবিজড়িত স্থান, প্রাচীন স্থাপনা, নদী ও চরাঞ্চল—কুষ্টিয়ার পর্যটন সম্পদের তালিকা দীর্ঘ। দেশ-বিদেশের পর্যটক আকর্ষণের মতো ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও প্রাকৃতিক উপাদানের অভাব নেই।
দর্শনীয় স্থান আছে, কিন্তু সব জায়গায় পর্যটকবান্ধব অবকাঠামো নেই। ঐতিহাসিক স্থাপনা আছে, কিন্তু সংরক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন আছে। পর্যটক আছে, কিন্তু তাদের জন্য পর্যাপ্ত তথ্য, গাইড, পরিচ্ছন্নতা, নিরাপদ যাতায়াত, আবাসন ও বিনোদনের সমন্বিত ব্যবস্থা সীমিত। উৎসবকে কেন্দ্র করে মানুষের ঢল নামে, কিন্তু সারা বছর পর্যটনকে সচল রাখার কার্যকর পরিকল্পনা কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
বিশেষ করে শিলাইদহ কুঠিবাড়ি ও লালন আখড়াকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়া আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক পর্যটনের গন্তব্য হওয়ার সম্ভাবনা রাখলেও বাস্তব চিত্রে রয়েছে নানা সীমাবদ্ধতা।
কুষ্টিয়ার পর্যটনের সবচেয়ে বড় সম্পদ এর ইতিহাস ও সংস্কৃতি। লালন শাহের দর্শন এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যকর্মের সঙ্গে জেলার সম্পর্ক কুষ্টিয়াকে দেশের অন্যান্য পর্যটন এলাকার তুলনায় আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।
শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে রবীন্দ্রনাথের জমিদারি জীবনের স্মৃতি, পদ্মার তীরের প্রকৃতি এবং রবীন্দ্রসৃষ্টির সঙ্গে সম্পর্কিত নানা ইতিহাস রয়েছে। অন্যদিকে ছেঁউড়িয়ার লালন আখড়া বাউল দর্শন ও লোকসংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
কিন্তু এই দুটি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যটন সার্কিট কতটা গড়ে উঠেছে, সেটিই অনুসন্ধানের বিষয়।
একজন পর্যটক শিলাইদহে গিয়ে কীভাবে লালন আখড়ায় যাবেন, কোথায় থাকবেন, কোথায় খাবেন, স্থানীয় প্রশিক্ষিত গাইড কোথায় পাবেন, কাছাকাছি আর কোন কোন দর্শনীয় স্থান ঘুরবেন—এসব তথ্য এক জায়গায় পাওয়ার ব্যবস্থা কতটা কার্যকর?
পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি গন্তব্যকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে শুধু ঐতিহাসিক স্থাপনা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সমন্বিত ‘ডেস্টিনেশন ম্যানেজমেন্ট’। কুষ্টিয়ার ক্ষেত্রে এই সমন্বিত ব্যবস্থাপনাই বড় চ্যালেঞ্জ।
কুষ্টিয়ার পর্যটনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর একটি শিলাইদহ কুঠিবাড়ি। রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত এ স্থানে প্রতিদিনই দর্শনার্থীদের আগমন ঘটে।
কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্থাপনাটির সংরক্ষণ, অবকাঠামো ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা প্রশ্ন সামনে এসেছে।
কুঠিবাড়ির কাঠের দরজা-জানালা, ভবনের বিভিন্ন অংশ এবং দর্শনার্থীদের চলাচলের জায়গার রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। কোথাও পুরোনো অবকাঠামো, কোথাও পানি নিষ্কাশনের সমস্যা—সব মিলিয়ে ঐতিহাসিক স্থাপনাটির দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, বৃষ্টির সময় কুঠিবাড়ি এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হলে দর্শনার্থীদের চলাচলে ভোগান্তি বাড়ে। ঐতিহাসিক স্থাপনার মতো একটি জায়গায় জলাবদ্ধতা শুধু পর্যটকের অসুবিধা নয়; দীর্ঘমেয়াদে এটি স্থাপনার পরিবেশ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
তাহলে প্রশ্ন হলো—রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত এই স্থাপনাকে ঘিরে দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ পরিকল্পনা কোথায়?
শিলাইদহ কুঠিবাড়ির মতো একটি ঐতিহাসিক পর্যটনকেন্দ্রে পানি নিষ্কাশনের সমস্যা নতুন কোনো বিষয় নয়। ভারী বৃষ্টিতে পানি জমে গেলে পর্যটকদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পুরোনো পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা যথাযথভাবে সচল না থাকা, নালা দখল ও দূষণ এবং আশপাশের জলাধারের পানি ব্যবস্থাপনার সমস্যার কারণে পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে।
যদি অযোগগুলো সত্য হয়, তাহলে প্রশ্ন আরও গুরুতর—একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনার আশপাশের পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে কার্যকরভাবে সংস্কার করা হয়নি কেন?
এখানে শুধু তাৎক্ষণিক পানি সরানোর ব্যবস্থা নয়, প্রয়োজন স্থায়ী পানি নিষ্কাশন পরিকল্পনা।
ছেঁউড়িয়ার লালন আখড়া কুষ্টিয়ার অন্যতম পরিচিত সাংস্কৃতিক গন্তব্য। লালন শাহের তিরোধান দিবস ও দোলপূর্ণিমাকে কেন্দ্র করে এখানে হাজারো মানুষের সমাগম হয়।
কিন্তু উৎসবের বাইরে সারা বছর পর্যটকদের জন্য কী ধরনের সাংস্কৃতিক ও পর্যটন কার্যক্রম রয়েছে—এ প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ।
লালনের গান, দর্শন ও বাউল সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে নিয়মিত সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, গবেষণা, ডকুমেন্টেশন, গাইডেড ট্যুর, স্থানীয় কারুশিল্পের বাজার এবং পর্যটনভিত্তিক কর্মসূচি গড়ে তোলা গেলে পর্যটকদের অবস্থানকাল বাড়ানো সম্ভব।
কিন্তু উৎসবকেন্দ্রিক ভিড়ের বাইরে একটি স্থায়ী পর্যটন অর্থনীতি গড়ে তোলার উদ্যোগ কতটা দৃশ্যমান?
পর্যটন উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলো স্থানীয় মানুষের অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ।
কুষ্টিয়ার ঐতিহাসিক স্থানগুলোতে পর্যটক এলেও স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য পর্যটনভিত্তিক ব্যবসার সুযোগ কতটা তৈরি হয়েছে, সেটি বিশ্লেষণের দাবি রাখে।
স্থানীয় খাবার, হস্তশিল্প, বাউল সংগীত, লোকজ পণ্য, পরিবহন, গাইড সার্ভিস, হোমস্টে ও ছোট আবাসন—এসব খাতকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে স্থানীয় মানুষের আয় বাড়তে পারে।
কিন্তু পরিকল্পিতভাবে এসব খাতকে পর্যটন ব্যবস্থার অংশ করা না গেলে পর্যটকের আগমন স্থানীয় অর্থনীতিতে কাঙ্ক্ষিত প্রভাব ফেলবে না।
একজন নতুন পর্যটক কুষ্টিয়ায় এসে জেলার প্রধান দর্শনীয় স্থানগুলোর তালিকা, দূরত্ব, যাতায়াতের পথ, খোলার সময়, প্রবেশমূল্য, থাকার ব্যবস্থা এবং স্থানীয় গাইড সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য কোথায় পাবেন—এ প্রশ্নের সহজ উত্তর এখনও অনেক ক্ষেত্রে পাওয়া যায় না।
ডিজিটাল যুগে প্রতিটি পর্যটনকেন্দ্রের জন্য সমন্বিত ওয়েব পোর্টাল, কিউআর কোডভিত্তিক তথ্য, ডিজিটাল ম্যাপ, বাংলা ও ইংরেজি তথ্য এবং জরুরি যোগাযোগ নম্বর থাকা স্বাভাবিক।
কুষ্টিয়ার পর্যটনকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিতে হলে এ ধরনের ডিজিটাল অবকাঠামোকে আর বিলাসিতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
পর্যটক শুধু দর্শনীয় স্থান দেখতে আসেন না; তাকে থাকতে হয়, খেতে হয়, চলাচল করতে হয়।
কুষ্টিয়া শহরে আবাসন সুবিধা থাকলেও জেলার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রের কাছাকাছি মানসম্মত ও পর্যটকবান্ধব আবাসনের সুযোগ সীমিত। একইভাবে পর্যটনকেন্দ্রিক এলাকায় স্বাস্থ্যসম্মত খাবার, পরিচ্ছন্ন শৌচাগার, বিশ্রামস্থান ও পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধার ঘাটতি পর্যটকদের অভিজ্ঞতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
ফলে অনেক পর্যটক স্বল্প সময়ের মধ্যে দর্শনীয় স্থান দেখে ফিরে যান। এতে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও সীমিত থাকে।
গড়াই ও পদ্মার মিলনস্থল, হরিপুরের চরাঞ্চল এবং নদীঘেঁষা প্রাকৃতিক দৃশ্য কুষ্টিয়ার পর্যটনের আরেকটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র।
নদীকেন্দ্রিক পর্যটন, নৌভ্রমণ, ওয়াকওয়ে, স্থানীয় খাবারের ব্যবস্থা, চরভিত্তিক বিনোদন ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম চালু করা গেলে নতুন পর্যটন পণ্য তৈরি হতে পারে।
তবে নদী ও চরাঞ্চলে পর্যটন উন্নয়নের ক্ষেত্রে পরিবেশ, নদীভাঙন, বন্যা, নৌনিরাপত্তা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকার বিষয়টি অগ্রাধিকার দিতে হবে।
অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ করে নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করলে পর্যটন উন্নয়নের বদলে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে।
কুষ্টিয়ার পর্যটন উন্নয়নে বিভিন্ন সময়ে নানা উদ্যোগ, পরিকল্পনা ও প্রকল্পের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু প্রকল্প ঘোষণার পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—কত টাকা বরাদ্দ হয়েছে, কোন সংস্থা বাস্তবায়ন করছে, কাজ শেষ হয়েছে কি না, রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কার এবং প্রকল্পের সুফল পর্যটকরা কতটা পাচ্ছেন।
এসব প্রশ্নের উত্তর জনসম্মুখে সহজে পাওয়া না গেলে পর্যটন উন্নয়ন পরিকল্পনার কার্যকারিতা যাচাই কঠিন হয়ে পড়ে।
এখানেই প্রয়োজন প্রকল্পভিত্তিক জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত তথ্যব্যবস্থা।
অনুসন্ধানে পর্যটনসংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলোকে কয়েকটি স্তরে দেখা যায়—প্রথমত, ঐতিহাসিক স্থাপনার সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ। দ্বিতীয়ত, পর্যটনকেন্দ্রিক অবকাঠামো ও যোগাযোগ। তৃতীয়ত, পরিচ্ছন্নতা, পানি নিষ্কাশন ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা। চতুর্থত, পর্যটকদের তথ্য ও গাইড সেবা। পঞ্চমত, আবাসন, খাবার, শৌচাগার ও পার্কিং সুবিধা। ষষ্ঠত, স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে পর্যটন অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করা। সপ্তমত, পর্যটনকেন্দ্রগুলোর সমন্বিত প্রচার ও ডিজিটাল উপস্থিতির ঘাটতি।
অর্থাৎ কুষ্টিয়ার সমস্যা পর্যটন আকর্ষণের অভাব নয়; সমস্যা হলো বিদ্যমান আকর্ষণগুলোকে একটি সমন্বিত পর্যটন ব্যবস্থার আওতায় আনার ঘাটতি।
কুষ্টিয়ার পর্যটন উন্নয়ন একক কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরকে ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণে, জেলা প্রশাসনকে সমন্বয়ে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে অবকাঠামো ও পরিচ্ছন্নতায়, পর্যটন মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডকে পর্যটন প্রচার ও পরিকল্পনায় এবং সংশ্লিষ্ট সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ব্যবস্থাপনায় ভূমিকা রাখতে হবে।
কিন্তু দায়িত্ব ভাগ করে দিলেই হবে না। প্রয়োজন একটি নির্দিষ্ট ‘কুষ্টিয়া পর্যটন মাস্টারপ্ল্যান’, যেখানে থাকবে—পর্যটনকেন্দ্রগুলোর পূর্ণাঙ্গ তালিকা;প্রতিটি স্থানের সংরক্ষণ পরিকল্পনা;পর্যটন সার্কিট ও যাতায়াত পরিকল্পনা;পর্যটক তথ্যকেন্দ্র;গাইড প্রশিক্ষণ;নিরাপত্তা ও জরুরি সেবা;আবাসন ও খাবার ব্যবস্থাপনা;স্থানীয় পণ্যের বাজার;নদীকেন্দ্রিক পর্যটনের নীতিমালা;ডিজিটাল প্রচার;প্রকল্পের বাজেট ও বাস্তবায়ন সময়সীমা;এবং নিয়মিত অগ্রগতি প্রকাশের ব্যবস্থা।
কুষ্টিয়াকে পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে গিয়ে শুধু নতুন স্থাপনা নির্মাণের দিকে নজর দিলে হবে না। বরং আগে রক্ষা করতে হবে যে ঐতিহ্য ইতোমধ্যে আছে।
রবীন্দ্রনাথের কুঠিবাড়ি শুধু একটি ভবন নয়; লালন আখড়া শুধু একটি স্থাপনা নয়। এগুলো বাংলাদেশের সাহিত্য, দর্শন ও লোকসংস্কৃতির ইতিহাসের অংশ।
তাই পর্যটনের নামে অতিরিক্ত বাণিজ্যিকীকরণ, অপরিকল্পিত নির্মাণ বা পরিবেশের ক্ষতি হলে মূল আকর্ষণই একসময় নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
কুষ্টিয়ার পর্যটনকে বদলাতে হলে প্রথমে প্রয়োজন সমস্যাগুলো স্বীকার করা। এরপর প্রয়োজন অগ্রাধিকার নির্ধারণ।
শিলাইদহ কুঠিবাড়ির সংরক্ষণ ও পানি নিষ্কাশন, লালন আখড়ার পর্যটন ব্যবস্থাপনা, ঐতিহাসিক স্থানগুলোর মধ্যে যোগাযোগ, পর্যটক তথ্যব্যবস্থা, নিরাপদ যাতায়াত, স্থানীয় গাইড ও আবাসন—এসবকে একটি পরিকল্পনার আওতায় আনতে হবে।
এর পাশাপাশি কুষ্টিয়ার জন্য তৈরি করা যেতে পারে ‘লালন-রবীন্দ্র পর্যটন সার্কিট’। এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে মীর মশাররফ হোসেনের স্মৃতিবিজড়িত স্থান, কাঙাল হরিনাথের স্মৃতি, ঐতিহাসিক স্থাপনা এবং গড়াই-পদ্মার নদীভিত্তিক পর্যটন।
এতে একজন পর্যটক একদিনের ভ্রমণ শেষে ফিরে না গিয়ে দুই-তিন দিন কুষ্টিয়ায় থাকার কারণ পাবেন। লাভবান হতে পারেন স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ী, রেস্তোরাঁ, পরিবহনকর্মী, গাইড, কারুশিল্পী, বাউলশিল্পী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা।
কুষ্টিয়ার পর্যটনের গল্প আসলে সম্ভাবনার গল্প যেমন, তেমনি অব্যবস্থাপনার প্রশ্নও।
লালন আছেন, রবীন্দ্রনাথ আছেন, ইতিহাস আছে, নদী আছে, সংস্কৃতি আছে—কিন্তু এসব সম্পদকে একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যটন অভিজ্ঞতায় রূপ দেওয়ার জন্য যে সমন্বিত উদ্যোগ দরকার, তার বাস্তব চিত্রই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনার দাবি রাখে।
প্রশ্ন তাই কুষ্টিয়ায় পর্যটন সম্ভাবনা আছে কি না—এটি নয়। প্রশ্ন হলো, সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে কতটা পরিকল্পনা হয়েছে, কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে এবং পর্যটক ও স্থানীয় মানুষ তার সুফল কতটা পাচ্ছেন।
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে বের করাই এখন কুষ্টিয়ার পর্যটন নিয়ে সবচেয়ে জরুরি অনুসন্ধান।








